১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: তিন আসামি রিমান্ডে, দুজন কারাগারে

আমিনবাজারে এক ব্যক্তির অটোরিকশা রাখা নিয়ে বিতণ্ডা থামাতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছিলেন এসআই আলতাফ; পরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা: তিন আসামি রিমান্ডে, দুজন কারাগারে
এসবি সদস্য আলতাফ হোসেন।

বিডিনিউজ২৪

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 07:07 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

ঢাকার আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সেইসঙ্গে অপর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে তাদের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি জন্য বৃহস্পতিবার দিনধার্য করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এ আদেশ দিয়েছেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিম। আর কাশেম আলী, দদি আল ফায়েত জিত নামে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার রাতে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে রাকিব, ছাব্বির ও ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পর দিন মঙ্গলবার বিকালে মৌলভীবাজার সদরের বাড়িতলী সাগরনাল এলাকা থেকে কাশেমকে এবং কুমিল্লা সদর থানার আমড়াতলী এলাকা থেকে জিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এসআই এসআই আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “রাকিব ও ওয়াসিমের পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে ছাব্বিরের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন না। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তিন আসামির রিমান্ডের প্রার্থনা করা হয়। পরে আদালত তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।”

এর আগে মঙ্গলবার মো. আলাউদ্দিন (২৯), মো. আপন (২৬), মো. জিহাদ (২৩), ইমরান হোসেন (২৫), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. গোলাম রাব্বির (২২) পাঁচ দিন এবং বিল্লাল (৩৪) ও দেলোয়ারের (৩৩) তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। তারও আগে সোমবার মামলার প্রধান আসামি জহুরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, “গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোরিকশার গ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তির অটোরিকশা রাখা নিয়ে বিতণ্ডা হয়। সেটি থামাতে গিয়ে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্য মো. আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশনে’ আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান।

“আসামিরা আলতাফ হোসেনকে রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। তাকে বাঁচাতে এলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়া আসামিরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান।”

পরে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তার ছেলেকে ‘আশঙ্কাজনক’ অবস্থায় ভর্তি রাখা হয়।

ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।