১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নববধূকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচণা’: রিমান্ড শেষে স্বামী কারাগারে

গত ২১ অগাস্ট আসামি রাহাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 05:44 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

ঢাকার শ্যামপুরে আফরা খান (১৬) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচণার মামলায় তার স্বামীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর। 

শ্যামপুরের ডিআইটি প্লটের নিজ বাসা থেকে গত ২১ অগাস্ট আফরার স্বামী রাহাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর রাহাতের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামপুর থানার এসআই ইমাম হোসেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন মঙ্গলবার। ওইদিন রাহাতের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় আদালত।

রিমান্ড শেষে শুক্রবার রাহাতকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন এসআই ইমাম হোসেন। আবেদনে বলা হয়, আসামি জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা দরকার। 

শ্যামপুর থানায় গত ২০ অগাস্ট রাহাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত আফরা খানের মা। অন্য তিন আসামি হলেন- রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী ও বড় ভাই সাইফ হোসেন।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৮ মে পারিবারিকভাবে রাহাতের সঙ্গে আফরার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আসামিরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অশ্লীল ভাষায় মেয়েটিকে গালাগাল করত। প্রতিবাদ করলে তারা আফরাকে মারধর করতেন। তাকে ভয়ভীতি, হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতন করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতেন।

এর মধ্যে রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার গত ২০ অগাস্ট আফরার মাকে ফোন করে পুত্রবধূর অজ্ঞান হয়ে পড়ার খবর দেন। পরে আফরার মা গিয়ে জানতে পারেন, মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। অচেতন অবস্থায় আফরাকে সূত্রাপুরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান রাহাতের বাবা লিটন ব্যাপারী ও ভাই সাইফ। তাদের সঙ্গে আফরার মাও ছিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আফরাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা তার মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছেন।

এ মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী ও বড় ভাই সাইফ হোসেন আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।