Published : 08 Mar 2026, 08:57 PM
‘গুম’ হওয়া মানুষদের পরিবারের কষ্ট লাঘব এবং তাদের জীবনের অনিশ্চয়তা কাটাতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “গুম হওয়া মানুষের পরিবারগুলো অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের সন্তানদের মানুষ করা, বেঁচে থাকা ও ভালোভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা শিগগিরই উদ্যোগ গ্রহণ করব।
“আমি ফিরে গিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাব, তার কাছে চিঠি লিখব যে এসব পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে এটি তাদের প্রাপ্য হওয়া উচিত।”
রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন ফখরুল।
গুমের কারণে যেসব পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে, তাদের সন্তানদের মানুষ করা, বেঁচে থাকা ও সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার আন্তরিক।
“দেশে নির্বাচন হয়েছে, কেউ মন্ত্রী হয়েছে, কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন, আবার অনেকেই বড় চাকরিতে গেছেন। কিন্তু যাদের আত্মত্যাগের কারণে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তাদের সন্তানরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। অন্তত তাদের ভবিষ্যৎকে একটু সুন্দর করার চেষ্টা করা সবার দায়িত্ব।
“এখন সবার প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত এসব পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখা, তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করা এবং নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।”
মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলনে নিখোঁজ বা নিহতদের অনেকের সন্তানকে তিনি ছোটবেলা থেকে দেখেছেন।
“কেউ কেউ বাবাকে হারিয়ে বড় হয়েছে। এমন পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে সহ্য করতে না হয়, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ফ্যাসিস্ট ভারতে পালিয়ে গেছে, কিন্তু সেখানে বসে শেখ হাসিনা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছেন, যা রীতিমত ফৌজদারি অপরাধ।
“গত দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা অসংখ্য পরিবারকে নিঃস্ব করেছে, শত শত মানুষকে গুম ও খুন করা হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি। গুম ও খুনের চেয়েও বড় ভয়াবহ বাস্তবতা হল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই।”
'মায়ের ডাক'র অন্যতম সমন্বয়ক সানজীদা আখতার তুলির সভাপতিত্বে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সাংসদ হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।