Published : 02 Dec 2025, 10:12 PM
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ‘হাইজ্যাক হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম এম আকাশ।
তিনি বলেছেন, “কোটা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছাত্রদের কর্তৃত্ব প্রতিকূল পরিস্থিতির ভিতরেই নির্দলীয় সাধারণ ছাত্রদের তীব্র সংগ্রামের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে হয়, কীভাবে মেধা ও যোগ্যতাবিহীন বলপ্রয়োগকে ঠেকাতে হয়।
“আর সেটা এবার ঘটেছে অরাজনৈতিক ছাত্রদের গা ঝাড়া দিয়ে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামী উঠানের মাধ্যমে। কিন্তু সেই উত্থান ‘হাইজ্যাক হয়ে গেছে’; কারণ তার নেতৃত্ব ছিল বিষয়ীগতভাবে অনুপযুক্ত।”
মঙ্গলবার এশিয়াটিক সোসাইটির অডিটোরিয়ামে অধ্যাপক ড. ফজলুল হালিম চৌধুরী স্মারক বক্তৃতা উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ: গণঅভ্যুত্থান, গণপ্রত্যাশা ও গণপ্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
এম এম আকাশ বলেন, “কোটা আন্দোলনের আপাত অরাজনৈতিক রূপ সত্ত্বেও তার মধ্যে কী সেরকম একটি বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতা সম্পন্ন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের আভাস দেখা যায়? নাকি এ আন্দোলন অধঃপতিত হয়েছে?
“তাই, বর্তমানে যারা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের আদি ও অকৃত্রিম চেতনাকে বিসর্জন দিয়েছেন, তারা বিতাড়িত হয়েছেন। যারা সংস্কারের কথা বলে মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতিতেই কম্প্রোমাইজ করতে চান বা যারা আদিতেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে ছিলেন এবং এখনো ভুল স্বীকার না করে সেই প্রতিক্রিয়াশীল ধারাতেই আছেন, তাদের সকলকেই প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের এক বিষয়ীগতভাবে উপযুক্ত নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠুক এটাই প্রত্যাশা, এটাই সংগ্রামের চ্যালেঞ্জ।”

জুলাই অভ্যুত্থানে বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিজয় অর্জিত হলেও মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্বে আসার পর ‘অচিরেই তা হতাশায় পরিণত হয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ অধ্যাপক বলেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক ভাবাদর্শের অনুসারী ছাত্র-নাগরিক সমাজ এই সময় ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার উপর ভর করে তাকে নিয়ে এগিয়ে আসেন। তবে যে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে ছাত্রজনতার এই অংশগুলো আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, যে বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে এর বিজয় অর্জিত হয়েছিল তা অচিরেই হতাশায় পরিণত হয়। বামপন্থীরাও বলতে থাকেন ‘বিপ্লব বেহাত হয়ে গেছে’।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী ট্রাস্ট ফান্ডের প্রতিষ্ঠাতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ফজলুল হালিম চৌধুরীর বড় মেয়ে হিসেবে সাদিকা হালিম স্মৃতিচারণ করেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এ কে এম নজরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আব্দুর রহিম।