Published : 25 Mar 2026, 07:26 PM
বিচারাঙ্গনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আগামী দিনে ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখছেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বুধবার সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব পান সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী।
এদিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অ্যাটর্নি জেনারেল।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সামনে কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের যে অনাস্থা কিংবা আস্থার সংকট, সেটা ফিরিয়ে এনে বিচার বিভাগের কাছে মানুষ এই মর্মে আস্থা স্থাপন করতে হবে যে তার ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এবং একমাত্র শেষ আশ্রয়স্থলটি হচ্ছে দেশের বিচারাঙ্গন।
“সেই বিচারাঙ্গনের প্রতি মানুষ আস্থা ফিরে পেয়েছে, এটা সুনিশ্চিত করাটাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
পূর্বের কোনো আলোচিত ঘটনার দ্রুত বিচার দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইট ইজ টু আরলি টু কমেন্ট। কারণ আমি তো মাত্র আজকে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছি এবং আগামী দিনের আমাদের পথ চলায় আপনারা ও সেক্ষেত্রে দেখবেন।
“আমি প্রত্যাশা করি যে…এককভাবে কোনো ব্যক্তির পক্ষে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। এটা একটা সম্মিলিত প্রচেষ্টা।”
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আলাপ হল সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যান তিনি।
দেশের অষ্টাদশ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া কাজল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তিন বারের সম্পাদক।
এদিন আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই পদে তিনি আসাদুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। নির্বাচনের আগে অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করে আসাদুজ্জামান বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তাকে আইনমন্ত্রী করা হয়েছে।
বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস কাজলের জন্ম ১৯৭০ সালের ১৯ নভেম্বর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর ১৯৯৫ সালে তিনি আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হন। ছাত্র থাকা অবস্থায় কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন।
কাজল বলেন, “ফ্যাসিবাদ যে কায়েম হয়েছে সেক্ষেত্রে তো আমাদের বিচারাঙ্গনের ভূমিকা যে ছিল না এ কথা বলার তো কোনো সুযোগ নেই।
“সুতরাং আমাদের এমন একটা বন্দোবস্ত তৈরি করতে হবে, যে বন্দোবস্তের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে না। মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে, মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।”
তার ভাষায়, “বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনের অনেকগুলো সমস্যা এবং সেগুলো সব হয়তো আমাদের ক্ষমতার মধ্যে নেই। তবে রাষ্ট্র, আমাদের বিচারাঙ্গনের অভিভাবক মাননীয় প্রধান বিচারপতিসহ বিচারপতিগণ, আইনজীবী, রাষ্ট্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস কিংবা সরকারি আইন কর্মকর্তা এবং প্রাইভেট যে সমস্ত আইনজীবী আছেন, পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী মানুষ, তাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামীর স্বপ্নের যে বাংলাদেশ আমরা দেখি, সেটা বিনির্মাণে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারব বলে আমি মনে করি।”