Published : 19 Aug 2026, 04:52 PM
মাধ্যমিক (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শেষে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি ক্লাস শুরুর চিন্তা করছে শিক্ষা প্রশাসন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর মোর্চা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি বলছে, তারা মধ্য নভেম্বরে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করে ভর্তি নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করেছে। তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের সময় বাঁচাতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা ভাবা হচ্ছে।
সাধারণত তিন ধাপে একাদশে ভর্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়। তবে ভর্তির আবেদন করা সব শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচিত না হলে চতুর্থ ধাপেও আবেদন গ্রহণের নজির আছে।
সাধারণত প্রথম ধাপে আবেদন নিয়ে ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা কলেজ নির্বাচন নিশ্চায়নের সুযোগ পান। এরপর দ্বিতীয় ধাপের আবেদন গ্রহণ করা হয়। যেসব পরীক্ষার্থী প্রথম ধাপে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে পারেননি বা প্রথম ধাপে নির্বাচিত হয়েও কলেজ নিশ্চায়ন করেননি তারা দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ পান।
একইভাবে দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ ও নিশ্চায়নের পর তৃতীয় ধাপের আবেদন নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে না পারা বা নির্বাচিত হয়েও নিশ্চায়ন না করা পরীক্ষার্থীরা তৃতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ পান।
তবে এবারের ভর্তি প্রক্রিয়া তিন ধাপের বদলে আবেদন গ্রহণের ধাপের সংখ্যা কমতে পারে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নভেম্বরে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করা হলেও তা এগিয়ে আসতে পারে। ১৫ সেপ্টেম্বর বা এ মাসের মাঝামাঝি ক্লাস শুরুর কথা ভাবা হচ্ছে।
“খসড়া ভর্তি নীতিমালায় তিন ধাপে আবেদন গ্রহণের প্রস্তাব করা হলেও তা কমতে পারে৷ মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কয় ধাপে আবেদন নেওয়া হবে। শিগগিরই ভর্তি নীতিমালা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর শুরু হবে ভর্তির আবেদন গ্রহণ।”
আবেদন গ্রহণের ধাপের সংখ্যা কমার সম্ভাবনা ছাড়া ভর্তি প্রক্রিয়া অন্যান্য বছরের মতই থাকবে বলেও তথ্য দেন অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণের পর ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব করে ভর্তি নীতিমালার খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঠিয়েছিল বলে আগে জানিয়েছিলেন এ কর্মকর্তা।
বরাবরের মত এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন কলেজ এবং মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং আবেদনের পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের আসনে পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য নির্বাচিত হবেন।
গত ১০ অগাস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসেছিলেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
একাদশ শ্রেণিতে দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় ২৫ লাখ আসন আছে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে এ ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে আলাদা। সে হিসাবে এবার সাড়ে ৭ লাখ আসন ফাঁকা থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।