১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জুবায়েদ হত্যা: আদালতে ৩ আসামি, জবানবন্দির আবেদন তদন্ত কর্মকর্তার

গেল রোববার পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ছাত্রীর বাসায় জুবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Oct 2025, 05:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:31 PM

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তার ছাত্রীসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে, তারা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ার কথা তুলে ধরে তা নথিবদ্ধ করতে আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য আবেদন করেন বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তানভীর মোর্শেদ চৌধুরী।

তার আগে সকালে বংশাল থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন জুবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন। তিনজন ছাড়াও অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার করা তিন আসামি হল জুবায়েদের ছাত্রী ও তার প্রেমিক এবং ওই প্রেমিকের বন্ধু ২০ বছর বয়সী ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।

গেল রোববার পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ছাত্রীর বাসায় জুবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়েছিল নিথর জুবায়েদ।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র ঘটনাস্থলে জড়ো হন তার সহপাঠী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিচারের দাবিতে তারা বিক্ষোভ দেখান তারা।

এরপর পুলিশ ওই বাসায় ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারপর রাত ১১টায় ওই ছাত্রীকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে সেদিন সন্ধ্যা থেকেই ওই কলেজছাত্রের নাম এবং ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর সোমবার সকালে ওই কলেজছাত্রের মা ছেলেকে নিয়ে গিয়ে বংশাল থানায় হস্তান্তর করে বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন।

সোমবার রাত ১০টার দিকে পল্টনের চামেলীবাগ শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আয়লানকে।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, জুবায়েদ রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রীকে পড়াতে যান। ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে তাকে খুন করার বিষয়টি ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জুবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে জানান। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে 

কামরুল হাসান নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ের আরেক ছাত্র জুবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। 

এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি এবং দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ওই ভবনের তৃতীয় তলার কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জুবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান। 

এনায়েত অভিযোগ করেন, আসামিরা জুবায়েদকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলার ডান পাশে আঘাত করে হত্যা করেছে।