১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সালাম মুর্শেদী পরিবারের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় দুদক

সালাম মুর্শেদী ও তার স্ত্রী-ছেলেমেয়ের ব্যাংক হিসাব, ঋণ হিসাব, এফডিআর বা সঞ্চয়পত্র, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য ও ব্যাংকে লকারের তথ্য রয়েছে কিনা, তা জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Sep 2025, 08:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

সাবেক এমপি ও বাফুফের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও তার স্ত্রী-ছেলেমেয়ের ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগ তদন্তে নেমে তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দেশের ৭৮টি তফসিলভুক্ত ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীর কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

সালাম মুর্শেদী ও তার স্ত্রী শারমিন সালাম, ছেলে ইশমাম সালাম ও মেয়ে শেহরিন সালামের ব্যাংক হিসাব, ঋণ হিসাব, এফডিআর বা সঞ্চয়পত্র, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য ও ব্যাংকে লকার রয়েছে কিনা, তা জানতে চাওয়া হয়েছে চিঠিতে।

তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন।

এর আগে প্রায় ২২ কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগে সালাম মুর্শেদীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করার তথ্য দেয় আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশেষায়িত এ সংস্থা বলছে, ব্যাংকে রাখা এফডিআরের তথ্য গোপনসহ নানাভাবে কর ফাঁকি দিয়েছেন সালাম মুর্শেদী।

আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রকিব বলেন, অভিযোগ স্বীকার করে তার তরফে ৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করায় ব্যাংক হিসাব জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রকিব বলেন, “উনার (সালাম মুর্শেদী) অনেকগুলো এফডিআর ছিল ব্যাংকে। এফডিআরগুলো আবার ফাইলে (আয়কর নথি) দেখানো ছিল না। তারপরও অন্যান্য বিষয় আছে। আমাদের অনুসন্ধান চলমান আছে।”

সালাম মুর্শেদী ও তার স্ত্রী-ছেলেমেয়ের আয়কর ফাইল খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। সালাম মুর্শেদীর মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয়কর ফাইলও তদন্ত করবে তারা।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে সালাম মুর্শেদীকে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২২ সালে খুলনার ফুলতলা এলাকায় হামলা, আক্রমণ ও হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাবেক ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী ২০০৮ সাল থেকে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়ান।

ব্যবসায়ী নেতা সালাম মুর্শেদী বিজিএমইএর সভাপতি, বাফুফের ফাইন্যান্স কমিটি ও রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন।

আরও পড়ুন-

কর ফাঁকির অভিযোগে সালাম মুর্শেদীর ব্যাংক হিসাব জব্দ