১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে ‘লুটপাটের’ অভিযোগ শাহজাহান চৌধুরীর

“এত বড় একটা বোঝা মাথার ওপর দিয়ে এক-দুই ঘণ্টা বসা সবার জন্য কষ্টকর হচ্ছে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Mar 2026, 04:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:09 PM

জাতীয় সংসদের নতুন সাউন্ড সিস্টেম ও হেডফোন ঘিরে লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

রোববার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের জন্য দেওয়া হেডফোন ব্যবস্থাটি অপ্রয়োজনীয় এবং এর মাধ্যমে বাজেটের অর্থ অপচয় করা হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শাহজাহান চৌধুরী হেডফোন দেখিয়ে বলেন, “এখন এত বড় বোঝা। এটা মনে হয় একটা বাজেট করেছিল, আর ওখান থেকে লুটপাট বাহিনীরা একটা বিল করে খাওয়ার জন্য এ ব্যবস্থাটা করেছেন।”

জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, অতীতের সংসদ অধিবেশনগুলোতে এ ধরনের ভারী হেডফোন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী এর আগে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “আমরা তো আরও দুইবার সংসদে এসেছি, আপনিও এসেছেন। কিন্তু এত বড় একটা বোঝা মাথার ওপর দিয়ে এক-দুই ঘণ্টা বসা সবার জন্য কষ্টকর হচ্ছে।”

শাহজাহান চৌধুরীর ভাষ্য, ১৯৯১ সালের সংসদ এবং ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ও এমন হেডফোন ছাড়াই সংসদ পরিচালনা করা হয়েছিল।

“এত বড় বোঝার দরকার নেই। একটা সাধারণ হেডফোন দিলেই আমরা শুনতে পারি। অথবা হেডফোন ছাড়াই সংসদের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিক করলে আরও ভালো হয়।”

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনও সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

গত বৃহস্পতিবার বিরতির পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হলে সংসদ কক্ষে মাইক্রোফোনে বিভ্রাট দেখা দেয়।

সেই সময় স্পিকার কিছুক্ষণ হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে অধিবেশন পরিচালনা করেন এবং পরে প্রায় ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেন।

বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলেও সংসদ কক্ষের সব মাইক্রোফোন স্বাভাবিক হয়নি বলে একাধিক সংসদ সদস্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

একই বিষয় নিয়ে এর আগে জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমও আপত্তি তুলেছিলেন। 

প্রথম দিনের অধিবেশনের পরে তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, “এই হেডফোনের মান এতটাই ভয়াবহ যে ব্যবহার করতে গিয়ে কান থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যথা ধরেছে। সাউন্ড কোয়ালিটি এমন নিম্নমানের, সংসদের পুরনো ডিভাইস এর চেয়ে পরিষ্কার অডিও দিত নিশ্চয়ই।”