১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আমার কথা কেউ বিশ্বাস করেনি: আক্ষেপ শুক্কুরের

“পরদিন সকাল থেকে ঘরে পানি ঢুকলে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছিল” বলেন তিনি।

আমার কথা কেউ বিশ্বাস করেনি: আক্ষেপ শুক্কুরের
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সুলাগালী গ্রামের আব্দুর শুক্কুর।

বিডিনিউজ২৪

উত্তম সেনগুপ্ত, ফেনীর সোনাগাজী থেকে ফিরে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2024, 09:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:21 AM

নিজের ঘরের পেছনের খাল উপচে যখন পানি উঠোনে আসতে শুরু করে, তখনই সারা গ্রামে হর্ন বাজিয়ে বন্যার খবর দিয়েছিলেন গ্রাম পুলিশ সদস্য আব্দুর শুক্কুর; তবে তার কথায় সাড়া দেয়নি কেউ।

অনেকেই বলছিলেন, গুজব ছড়াচ্ছেন শুক্কুর। যদিও পরদিন তার কথাই সত্যি হয়; বানের পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যেতে শুরু করলে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে সবাই।

মঙ্গলবার আক্ষেপের সুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এসব কথা বলছিলেন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সুলাগালী গ্রাম পুলিশ সদস্য শুক্কুর।

ভয়াবহ বন্যায় তার এলাকার সবাই ঘরবাড়ি ছেড়েছেন। পানি নামা শুরু করলেও শুক্কুরের উঠোনে এখনও কোমর সমান পানি।

অতি বৃষ্টি আর ঢলে ভয়াবহ বন্যায় ডুবেছে ফেনীর বিভিন্ন উপজেলায় পানি আসতে শুরু করে গত ১৯ অগাস্ট থেকে। কিন্তু সোনাগাজী উপজেলায় পানি আসে তারও তিনদিন পর।

শুক্কুর বলেন, তার বাড়ির পেছনে বদরুদ্দোজা খাল। ২২ অগাস্ট সন্ধ্যার পর খালের পানি তার বাড়িতে চলে আসে। সে সময় তিনি একটি হ্যান্ডমাইকে পুরো এলাকায় বন্যার খবর দেন।

তার ভাষ্য, “কেউ আমার কথা বিশ্বাস করেনি। পরদিন সকাল থেকে যখন পানি বেড়ে বিভিন্ন ঘরে ঢুকে পড়ে, তখন সবাই ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছিল।

“পরদিন পানি বেড়ে পুরো গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার পর অন্যদের সঙ্গে আমিও উদ্ধারে নেমে পড়ি। যাকে যেখান থেকে পেরেছি, আমরা নিরাপদে যেতে সহযোগিতা করি।”

ফেনীতে তৃতীয় দফার বন্যায় গোটা জেলা প্লাবিত হলেও এখন পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বন্যা পরবর্তী ঘর মেরামত আর সামান্য উপার্জন নিয়ে সংসার চালানো নিয়েই এখন দুঃশ্চিন্তায় শুক্কুর।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মাসে সাড়ে ৬ হাজার টাকা সরকার থেকে গ্রাম পুলিশ সদস্য হিসেবে ভাতা পাই। সেটিও পাই তিন মাস পরপর।

“যে টাকা ভাতা পাই, তা দিয়ে খুব কষ্ট করে চলি। ইউনিয়ন পরিষদের কাজ, থানায় হাজিরাসহ বিভিন্ন সরকারি কাজ করতে করতে আর অন্য কোনো কাজ করার সুযোগ পাই না।”

শুক্কুর জানান, গত কোরবানির ঈদের সময় সবশেষ ভাতা পেয়েছিলেন। সরকার পরিবর্তনে এবার ভাতা পাবেন কি না, সেটা নিয়েই তার শঙ্কা।

“এবার ভাতা পাওয়ার আগেই সরকার পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন ভাতা পাব কিনা, সেটাও জানি না। তার ওপর বাড়িঘর সব গেছে।”

পাঁচ সন্তানের বাবা শুক্কুর বলেন, “এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। অন্য চারজন পড়শোনা করে। তার ওপর বৃদ্ধ মা, সবমিলিয়ে আমার চলতে কষ্ট হয়।

“ঘরে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন যদি চাকরিটাও যায় তাহলে তো না খেয়ে পথে বসতে হবে।”