জ্বালানিমন্ত্রীর ফুসফুসে সংক্রমণ, অবস্থা উন্নতির দিকে
এটি এক ধরনের নিউমোনিয়া তবে কোভিড নিউমোনিয়া নয়, বলছেন চিকিৎসক।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছেন। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আরও কিছুদিন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন সেখানকার কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সি এম শাহীন কবীর।
ঠান্ডা, জ্বর ও কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে গত মঙ্গলবার রাতে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মন্ত্রীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ডা. শাহীন কবীর বলেন, “মন্ত্রী সম্প্রতি বিদেশে একটা সরকারি কাজে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আসার পর জ্বর, সর্দি কাশিতে ভুগছিলেন। বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার পর ভালো না হওয়ায় মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে জরুরি বিভাগে ভর্তির পর আমরা অক্সিজেন মেপে সেটি কম দেখা গেছে।’
“অক্সিজেন কম পাওয়ার পর তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর তার চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রে পর্যালোচনা করে ফুসফুসে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এটি এক ধরনের নিউমোনিয়া তবে কোভিড নিউমোনিয়া নয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।”
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তথ্য দিয়ে ওই চিকিৎসক বলেন, “কিছুদিন আগে ব্যাংককে তার হৃদযন্ত্রের রক্তনালিতে একটি স্টেন্ট (রিং) বসানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য আরও কিছুদিন হাসপাতালে অবস্থান করা প্রয়োজন। তবে কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া অথবা কীভাবে এই ফুসফুসের ইনফেকশন হয়েছে সেটি জানা যায়নি। বিকেলে রেসপিরেটরি পরীক্ষা (ফুসফুসের কার্যকারিতা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা যাচাই) হবে। তারপর হয়ত জানা যাবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শাহীন কবীর বলেন, “উনার বড় কোনো সমস্যা নেই। সকালে নাস্তা করেছেন, দুপুরে লাঞ্চ করেছেন। শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।’’
এর আগে সকালে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানেন।
