Published : 29 Jun 2025, 05:58 PM
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালু রেখেই আলোচনায় বসতে যাওয়ায় অর্থ উপদেষ্টা তা প্রত্যাখ্যান করার কথা বলেছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
রোববার বিকেল ৪টায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য সচিবালয়ের পথে রওয়ানা দিয়ে ফেরত আসেন আয়কর বিভাগের ১০ সদস্য ও কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট বিভাগের ১০ সদস্য।
পরিষদের সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মোহাম্মদ তারেক রিকাবদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সংবাদমাধ্যম মারফত জেনেছিলাম তিনি (অর্থ উপদেষ্টা) আলোচনা করবেন। আবার একই মারফেতেই জেনেছি তিনি আলোচনা করবেন না, তাই আমরা ফেরত এসেছি।
এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এদিন দেশের সকল কর, ভ্যাট ও কাস্টমস দপ্তরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ করে টানা দ্বিতীয় দিনের মত ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালন করেন। তাতে দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমে ‘স্থবিররা’ দেখা দেয়।
অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের তরফে। তবে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চালিয়ে যান এর মধ্যে।
মার্চ টু এনবিআর কর্মসূচি বন্ধের কোনো প্রভাব আদতে পড়ার কথা নয়। কারণ আন্দোলনে যোগ দিতে যারা এনবিআরে আসবেন, তারা এর মধ্যেই চলে আসেন। এতে করে শুল্কায়নসহ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
‘কমপ্লিট শাটডাউন ও মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচির শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকে এ কর্মসূচি রোববারও অব্যাহত ছিল।
এদিন এনবিআরের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে হবে না বলে অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন-এমন খবর এসেছে সংবাদমাধ্যমে। সে খবরে বলা হয়েছে, সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন যে কর্মকর্তারা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করতে চাইলে করুক।
আন্দোলনরতরা কঠোর অবস্থান থেকে না সরায় সরকারের তরফে কঠোরতা এল।
কর্মস্থলে ফিরে না গেলে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি এসেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকেও।
এ বিষয়ে সরকার একটি বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে বলা হয়, “অতি জরুরি আমদানি-রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের কার্যক্রম চলমান রাখার জাতীয় স্বার্থে সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন সকল কাস্টমস হাউস, আইসিডি, বন্ড কমিশনারেট এবং শুল্ক স্টেশনসমূহের সকল শ্রেণির চাকরিকে অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
কর্মকর্তারা ও কর্মচারীদের অনতিবিলম্বে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া এবং আইনবিরোধী ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হুঁশিয়ারি দিয়ে সরকার বলেছে, যদি তারা এই আহ্বানে সাড়া না দেন, তাহলে দেশের জনগণ ও অর্থনীতির নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকার বাধ্য হবে।
গত মাসে এনবিআর দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ করে অধ্যাদেশ জারি হয়। সেটি বাতিলের দাবিতে কলম বিরতিসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে নামেন এনবিআরের কর্মীরা।
সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ এর আন্দোলনের মধ্যে সরকার পিছু হটে। বলা হয়, অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এরপর কাজে যোগ দিলেও আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অটল থাকেন এবং সংস্থার কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।
পরে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় অফিসে ফেরেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
তিনি দায়িত্বে এসে আন্দোলনে থাকা কয়েক কর্মকর্তাকে বদলি করেন। আন্দোলনকারীরা সেমিনার করতে চাইলে সে জন্য কক্ষ বরাদ্দও আটকে দেন। সব মিলিয়ে তার সঙ্গে কর্মকর্তাদের দূরত্ব আরো বেড়ে যায়।