Published : 27 Aug 2025, 08:11 PM
জুলাই গণ অভ্যুত্থানে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে ভিডিওতে ছেলের মৃত্যুর দৃশ্য দেখে নীরবে কেঁদেছেন তার বৃদ্ধ বাবা মকবুল হোসেন।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে প্রধান কৌঁসুলির সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আবু সাঈদ হত্যার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সূচনা বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, মানবতাবিরেোধী অপরাধ, তদন্ত, বিচার–সব বিষয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য তুলে ধরেন।
এসময় ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার ছয়জন উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্য দিতে আসা আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
তাজুল ইসলাম তার বক্তব্যের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালের একটি টেলিফোন কথপোকথনের বিবরণ পড়ে শোনান। এতে শেখ হাসিনা রাজাকারকে মেরেছেন, এখন এদেরও (আন্দোলনকারী) মারতে হবে, এমন কথাও বলেন।
এক পর্যায়ে প্রধান কৌঁসুলি আদালতের অনুমতি নিয়ে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ার ভিডিওটি প্রদর্শন করেন। এ সময় এজলাসে উপস্থিত আবু সাঈদের বাবা নীরবে চোখ মুছতে থাকেন।
এর আগে সকালে এ মামলার গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনে পুলিশ।
তারা হলেন-এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ। ওই সময় এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিতে দেখা যায় তাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ।
তার বুক পেতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার এ ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক দফা দাবিতে গড়ায়। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে ওই বছরের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।
গত ২৪ জুন আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। ৩০ জুন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। ২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন।
গত ৬ অগাস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দিন (২৭ অগাস্ট) ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ ২৬ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।