১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্বালানির রেশনিং ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়াবে: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

“গণপরিবহনগুলোর নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল হয়ে সিডিউল লণ্ডভণ্ড হতে পারে।”

জ্বালানির রেশনিং ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়াবে: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Mar 2026, 12:55 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:07 PM

জ্বালানি তেল বিক্রির যে সীমা ঠিক করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, সেই পদ্ধতি ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভাড়া নৈরাজ্য ‘উস্কে দেবে’ বলে মনে করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত ঈদের দিন পর্যন্ত পরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান। 

বিপিসি গত শুক্রবার ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা ঠিক করে দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার এবং এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল দেওয়া যাবে।

এছাড়া ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেওয়ার সীমা ঠিক করা হয়।

আর রাইড শেয়ারিং সেবায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দিনের সর্বোচ্চ সীমা ৫ লিটার ঠিক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদে ঢাকা ও আশেপাশের জেলা থেকে প্রায় দেড়কোটি মানুষ গ্রামের বাড়ি যাবে। এছাড়া দেশের একজেলা থেকে অপর জেলায় আরো ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষের যাতায়াত হবে। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির ধারণা, বিভিন্ন শ্রেণির লঞ্চে ৪০ লাখ ট্রিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৩০ লাখ ট্রিপ, হিউম্যান হলারে ৮০ লাখ ট্রিপ, কার-মাইক্রোবাসে ৬০ হাজার ট্রিপ, দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে ৩০ লাখ ট্রিপ, ঢাকার সিটিবাসে ৪০ লাখ ট্রিপ, রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে ২ কোটি ৫০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে। 

এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত সামাল দেওয়ার মতো গণপরিবহন ব্যবস্থা দেশে নেই মন্তব্য করে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “একদিকে গণপরিবহন সংকট, অন্যদিকে প্রতিটি পরিবহনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহনে জ্বালানি তেল সরবরাহে সিলিং পদ্ধতি পরিবহনে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত বাধাগ্রস্ত করবে। 

“এমন সুযোগে কিছু অসাধু পরিবহন মালিক ভাড়া নৈরাজ্য চালাবে। যানজট-জনজটে নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হবে। বারবার জ্বালানি নিতে গিয়ে মানুষের যাতায়াত বিলম্বিত হবে। এতে গণপরিবহনগুলোর নির্ধারিত ট্রিপ বাতিল হয়ে সিডিউল লণ্ডভণ্ড হতে পারে।”