Published : 09 Sep 2025, 09:11 PM
সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসিকে প্রশাসনিক ও আর্থিক বিধি প্রণয়নের স্বাধীনতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ চীন আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।
অধ্যাপক মোবাশ্বের বলেন, "কর্ম কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএস সম্পন্ন করা। তবে এতে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা কর্ম কমিশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা না থাকা।
“পরীক্ষা পদ্ধতিতে কালক্ষেপণ হ্রাসের লক্ষ্যে আমরা একটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছি, যেটাকে আমরা বলছি সার্কুলার সিস্টেম অব ইভালুয়েশন। আমরা হিসেব করে দেখেছি, এই সিস্টেমে এক বছরে একটি বিসিএস সম্পন্ন করা সম্ভব।
"বর্তমান পদ্ধতিতে বিসিএসের খাতা দেখায় ডাবল এক্সামিনার পদ্ধতি চালু আছে। এতে পরীক্ষার খাতা দেখতে আমাদের ৬ থেকে ৮ মাস সময় লেগে যায়, কখনো কখনো তার চাইতে বেশি। আমরা যদি রান টাইম কমিয়ে এক বছর করতে চাই, প্রতি বছরে একটি বিসিএস সম্পন্ন করতে চাই, তাহলে আমাদের সার্কুলার সিস্টেমে যেতে হবে।"
নতুন পদ্ধতিতে যাওয়ার জন্য একটি বিধি পরিবর্তনের প্রয়োজন জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, "সে বিধিটি প্রস্তাব আকারে কমিশন থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়, আমার মনে হয় চার মাস আগে, এখনো ওই বিধিটি অনুমোদিত হয়ে আসেনি।
"কমিশন গতিশীল হিসেবে কাজ করতে পারত যদি বিধি করার স্বাধীনতাটুকু পেত; সেটা প্রশাসনিক ও আর্থিক দুটোই।"
নির্বাচন কমিশন বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা পেলেও পিএসসি বর্তমানে সে ক্ষমতা ভোগ করে না বলে মন্তব্য করেন চেয়ারম্যান।
পিএসসি আগে এ স্বাধীনতা ভোগ করলেও ২০১১ সাল থেকে 'পরিকল্পিত রাজনৈতিক ছকের মাধ্যমে' কমিশনকে ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত একটি দপ্তরের মত’ করে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মোবাশ্বের।
তিনি বলেন, নতুন পদ্ধতিতে ৩০ নভেম্বর বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরের বছরের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশ করা যাবে।
বর্তমান কমিশন ৫০টি পরীক্ষা নিলেও কোনো প্রশ্ন ফাঁস হয়নি বলে দাবি করেন চেয়ারম্যান।
অন্যদের মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খানসহ পিএসসির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।