Published : 15 Sep 2025, 03:29 PM
জুলাই আন্দোলনের মিরপুর থানার হাদিস মিয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আর নিউ মার্কেট এলাকায় হাবিবুর রহমান হত্যাচেষ্টায় মামলায় নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাদ্দাম হোসেন পাভেলকে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম এম মিজবাহ উর রহমান এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
মিরপুর মডেল থানার এসআই হোসনে মোবারক গত ৯ সেপ্টেম্বর আনিসুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আর নিউ মার্কেট থানার মামলায় এসআই সিয়াম আহমেদ ৬ সেপ্টেম্বর পাভেলের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন সোমবার ঠিক করেছিলেন। এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানি নিয়ে আদালত থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ হয়।
পাভেলের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
তিনি বলেন, “মামলাটি তদন্তধীন অবস্থায় রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আসামিরা চেষ্টা করেছে। তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের গুরুতর আঘাতসহ হত্যা করেছে।
“রিমান্ডে গেলে সঠিক তথ্য জানা যাবে। আসামির নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।”
আসামি পাভেলের পক্ষে আইনজীবী এমারত হোসেন (বাচ্চু) রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চান।
শুনানিতে তিনি বলেন, “আসামিকে কীভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে, আমার মাথায় আসে না। মামলার অভিযোগে আসামির পরিচয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কথা বলা হয়েছে। আসলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী। নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক এমপি ছিলেন।
“আসামি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন। নিজ বাসা থেকে তাকে ধরে আনা হয়েছে। তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকতেন, তাহলে নিজ বাসায় কখনো থাকতেন? আসামি নির্দোষ, নিরপরাধ। তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। রিমান্ড ফরোয়ার্ডিংয়ে যে আসামির কথা বলা হয়েছে, এই আসামি সেই আসামি না। আসামি রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করছি।”
শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
হাদিস মিয়ার মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ৪ অগাস্ট মিরপুর এলাকায় হাদিস মিয়া আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন৷
এ ঘটনায় গত ২৮ মার্চ হাদিস মিয়ার পরিবার বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করে।
হাবিবুর হত্যাচেষ্টা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ২ অগাস্ট রাজধানীর নিউ মার্কেটের ২ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হয়। এতে মাজেদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমানসহ ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মো. মাজেদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, মাহাবুব, নাহিদ, রাসেল, মিরাজ, ইডেন কলেজের শাম্মী আক্তার, সিটি কলেজের হাফিজা আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস নাঈমা আহত হন।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৬ অগাস্ট নিউ মার্কেট থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন হাবিবুর রহমান।