১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চুক্তি বাস্তবায়নের ‘নিশ্চয়তা’ জাপানের, ‘স্বার্থ দেখবে’ বিএনপি সরকার

“এটা ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে হলে কন্টিনিউ থাকতে পারে, ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে না হলে আমরা বিবেচনা করে দেখব।”

চুক্তি বাস্তবায়নের ‘নিশ্চয়তা’ জাপানের, ‘স্বার্থ দেখবে’ বিএনপি সরকার
জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: পিআইডি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Feb 2026, 08:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সম্প্রতি হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের ‘নিশ্চয়তা’ নতুন সরকারকে দিয়েছে জাপান।

তবে, বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের করা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা হল কি-না, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির বৈঠকের পর দুপক্ষের এমন বক্তব্য আসে।

ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও অংশ নেন।

বৈঠকের পর জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি, যেখানে আমরা কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়েছি।

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: পিআইডি

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন

“ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিষয়ে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যের পাশাপাশি সম্প্রতি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি নিয়েও আলোচনা আমরা করেছি। এসব চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি।”

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করতে চলতি মাসের ৬ তারিখে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

চুক্তির পর এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছিল, এ চুক্তির আওতায় তৈরি পোশাকসহ প্রায় সাত হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশের বাজারে এক হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।

এর দুদিন আগে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি সই করে অধ্যাপক ইউনূসের সরকার।

মঙ্গলবার জাপানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এক প্রশ্নে বলেন, “প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্পর্কে উনি জাস্ট এটা মেনশন করছেন যে চুক্তি হয়েছে। 

“লেট আস সি দ্য নোট অফ অ্যাডভাইস… অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী রেখে গেছে, এ বিষয়ে আমরা দেখে তারপরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আমরা কী নিই; এটা ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে হলে কন্টিনিউ থাকতে পারে, ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে না হলে আমরা বিবেচনা করে দেখব। সো লেট আস সি হোয়াট হ্যাজ বিন লেফট বাই দি ইন্টেরিম গভার্নমেন্ট। এটা না দেখেতো আর কোনো বক্তব্য দেওয়া যায় না।”

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমাদের সবগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় স্পর্শ করেছি আমরা, এই ইস্যুতে আসলে কোনো মন্তব্য আমি করতে চাই না।”