১২ শিক্ষকের নামে ‘একাই নিয়েছেন’ ঋণ: অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা

প্রত্যেকের নামে ২ লাখ টাকা করে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ বাগেরহাটের ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Sept 2022, 06:55 PM
Updated : 18 Sept 2022, 06:55 PM

বাগেরহাটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালিয়াতির মাধ্যমে ১২ শিক্ষকের নামে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ একাই ভোগ করেছেন; যাতে তাকে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও এক কর্মকর্তা।

রোববার এমন অভিযোগে দুদকের বাগেরহাট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে কমিশনের উপ পরিচালক মো. শাহরিয়ার জামিল বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক।

আসামিরা হলেন- বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের সোনাখালী আজিজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) আবদুল্লাহ আল মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংক মোড়েলগঞ্জ শাখার বরখাস্ত ব্যবস্থাপক সাফিয়া বেগম ও ঋণ কর্মকর্তা (ক্যাশ) সৈয়দ শিয়ন সাইফ।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, মোড়েলগঞ্জের অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদ তার প্রতিষ্ঠানের ১২ জন শিক্ষকের প্রত্যেকের নামে দুই লাখ টাকা করে ‘কনজ্যুমার লোন’ নেন। অন্য শিক্ষকদের না জানিয়ে তাদের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসব ঋণ নেওয়া হয়। এতে সহযোগীতা করেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক ও ঋণ কর্মকর্তা।

এজাহারে বলা হয়, আসামি মাসুদ ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সোনাখালী আজিজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে ঋণ নিতে এমন জালিয়াতির আশ্রয় নেন।

ওই ১২ শিক্ষকের নামে ভুয়া ঋণ হিসাব খোলার আবেদন ফরমসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়, “ঋণ মঞ্জুরীপত্রে সাফিয়া বেগম ও সৈয়দ শিয়ন সাইফ স্বাক্ষর করেছেন। ঋণ হিসাব খোলার ফরমের অনেক ঘরই অপূরণীয়। তবে হিসাব খোলার আবেদনপত্রে অনুমোদনকারীর ঘরে সাফিয়া বেগম স্বাক্ষর করেছেন। হিসাবগুলোর পরিচয়দানকারী আবদুল্লাহ আল মাসুদ।”

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, “এই লোনের টাকা থেকে সাফিয়া ও সাইফ দুইজন ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং তারা প্রত্যেকটা ঋণে মাসুদকে জামিনদাতা হিসেবে রাখেন।”

ওই ১২ শিক্ষক ঋণের বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং তারা কোনো টাকা গ্রহণ করেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

“আবদুল্লাল আল মাসুদ ইতোমধ্যে ব্যাংকে জমা রিসিটের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। বাকি টাকা ব্যাংকের নিয়মনীতি অনুসরণ করে তিনি নিজেই জমা করবেন। এই কনজ্যুমার ঋণের বিষয়ে ১২ জন শিক্ষকের কোনো দায়িত্ব নেই। ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও লোন অফিসার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাকে নগদ টাকা প্রদান করেছেন।”

মামলায় বলা হয়েছে, মাসুদ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঋণগুলো তিনি গ্রহণ করেছেন। যাদের নামে এই ঋণগুলো নেওয়া হয়েছে তারা এই বিষয়ে কিছুই জানে না। সংশ্লিষ্ট ঋণের কিস্তির টাকা তিনি নিজে পরিশোধ করেন এবং তার দেওয়া পরিশোধিত ঋণের টাকা জমা দানের ২৬টি রিসিটের কপি দাখিল করেন।

এজাহারে বলা হয়, প্রত্যেকের নামে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়, যা বর্তমানে সুদাসলে ৪৩ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে।

সরকারি কর্মচারী হয়ে অপরাধমূলক অসদাচরণ, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও অসাধুভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মসাৎ করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক