‘ছেলেকে সময়ের আগে স্কুলে নিতে এসএমএস পেয়েছিলেন মিতু’

স্বামী-সন্তানকে নিয়ে মিতু যে ভবনে থাকতেন, সাক্ষী সুরমা সেই ভবনেরই বাসিন্দা।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Jan 2024, 10:41 AM
Updated : 16 Jan 2024, 10:41 AM

চট্টগ্রামে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু যেদিন নিহত হন, সেদিন ছেলেকে নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুলে নিতে মোবাইল ফোনে এসএমএস পেয়েছিলেন।

ঘটনার আগেরদিন মিতু ওই এসএমএস পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রতিবেশী উম্মে ফরহাদ আহমেদ সুরমা।

সোমবার চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে সুরমা এ তথ্য জানান।

স্বামী-সন্তানকে নিয়ে মিতু যে ভবনে থাকতেন, সুরমা সেই ভবনেরই বাসিন্দা।  

সাক্ষ্যে তিনি বলেন, “আমার দুই ছেলেও একই স্কুলে (মিতুর সন্তান মাহির যে স্কুলে পড়ত) পড়ে। ২০১৬ সালের ৪ জুন রাত সাড়ে ৭টা-৮টার দিকে মিতু ভাবি আমাকে ইন্টারকমে ফোন করেছিলেন।

“তিনি (মিতু) বলেন, উনার কাছে একটা এসএমএস এসেছে ছেলেকে আর্লি স্কুলে নিয়ে যেতে। উনি জানতে চান, আমার কাছেও এসএমএস এসেছে কিনা। আমি বলেছি, না আসেনি।”

সুরমা বলেন, “সেই রাতে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমরা ফ্ল্যাটের আরেক প্রতিবেশীর বাসায় ছিলাম। সেখানে খাওয়া দাওয়া করি।”

হত্যাকাণ্ডের দিনের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, “২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে আমার স্বামী ফোন করে আমাকে জানায়, মিতু ভাবি মারা গেছে। ফোন পেয়ে আমি লিফট থেকে নেমে দেখি মাহির।

“ও আমাকে বলে, আমার আম্মু মারা গেছে। সে তখন কান্না করছিল। তাকে ভবনের ভিতরে পাঠিয়ে আমি ওয়েল ফুডের সামনে যাই। দেখি মিতু ভাবি রাস্তায় পড়েছিলেন রক্তাক্ত অবস্থায়। গুলির চিহ্ন দেখি। এরপর পুলিশ সুরতহাল করে; আমি সাক্ষর করি।”

এদিন উম্মে ফরহাদ আহমেদ সুরমাসহ মোট চারজন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

সে সময়ের চট্টগ্রাম সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক ব্যালাস্টিক এক্সপার্ট আবদুর রহিম সাক্ষ্যে বলেন, “২০১৬ সালের ৩০ জুন সিএমপি ডিবির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. কামরুজ্জামানের কাছ থেকে পাওয়া স্মারকমূলে সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটি কাগজের বাক্সের ভিতর সিলগালা অবস্থায় আলামত পাই।

“আলামত হিসেবে ৭ পয়েন্ট ৬৫ এমএম পিস্তলের দুটি অব্যবহৃত, একটি ব্যবহৃত ও একটি মিস ফায়ার হওয়া কাতুর্জ, স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি পয়েন্ট ৩২ ক্যালিবারের রিভলবার, স্থানীয়ভাবে তৈরি একটি রিভলবার পাই।”

এসব আলামতের বিষয়ে মতামত, ব্যালাস্টিক রিপোর্ট ও রাসায়নিক প্রতিবেদন তিনি পরীক্ষা শেষে জমা দেন বলে জানান তিনি।

পাঁচলাইশ থানার সেসময়ের কনস্টেবল রনিতা বড়ুয়া সাক্ষ্যে বলেন, “ঘটনার দিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে এসআই ত্রিরতন বড়ুয়া ফোন করে বলে, জিইসি মোড়ে একটা লাশ আছে। ওখানে যেতে। আরো দুজন পুলিশ সদস্যসহ সেখানে যাই।

“ওখানে গিয়ে দেখি ওয়েল ফুডের সামনে কালো বোরকা পরা একটি লাশ পড়ে আছে। এসআই ত্রিরতন বড়ুয়া সুরতহাল করেন। তাকে সহযোগিতা করি। তিনি জব্দ তালিকাও করেন।”

সোমবার দিনের চতুর্থ সাক্ষী জিইসি মোড়ের একটি ফল দোকানের কর্মচারী আবদুর রহিম আদালতে বলেন, ঘটনার দিন সকালে দোকান খুলতে গেলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও জড়ো হওয়া লোকজন দেখতে পান তিনি। তারা জানায়, এখানে একজনকে সন্ত্রাসীরা মেরে চলে গেছে।

“সেখান থেকে পুলিশ ৩টি ‍গুলি, একটি গুলির খোসা ও এক জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করে জব্দ তালিকা করে। আমাকে স্বাক্ষর করতে বলায় আমি স্বাক্ষর করি।”

দিনের কার্যক্রম শেষে আদালত আগামী ১৬ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে দিয়েছে।

(প্রতিবেদনটি প্রথম ফেইসবুকে প্রকাশিত হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক)