Published : 03 Aug 2026, 03:40 PM
ঢাকার দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় এক নারী দন্ত চিকিৎসককে খুনের মামলায় জুতার ছাপের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার স্বামী সোহেল রানাকে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
সোমবার শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর সিদ্দিক।
গত বৃহস্পতিবার ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলির বাসা থেকে চিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পিনুর লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ ধারণা করেছিল, বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে হত্যা করে এবং ঘরের জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
তবে জানালার যে অংশে গ্রিল কাটা হয়, সেই জানালার ভেতরের অংশের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পান সিআইডির সদস্যরা। এরপর বাসায় পাওয়া একজোড়া জুতার ছাপের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়। ওই জুতা ছিল চিকিৎসকের স্বামী সোহেল রানার।
পিনুকে খুনের ঘটনায় তার বোন সারাহ সুলতানা পলি শুক্রবার অজ্ঞাতদের আসামি করে এ মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে।
শনিবার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই হাবিবুর রহমান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাৎ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন।
এদিন শুনানিকালে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী শাহাবুদ্দিন শেখ রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান। পরে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
সোহেল রানা উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরে একটি আবাসন কোম্পানিতে সহকারী ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোহেল রানা বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে পিনুকে একা বাসায় রেখে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যান। কেউ আনতে না যাওয়ায় বিকালে মেয়ে বাসায় চলে আসেন। বাসায় এসে দেখেন, ঘরের দরজা খোলা, তবে চাপানো।
শিশুটি দেখতে পায়, তার মা খাটের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। তার মুখের উপর বালিশ রাখা। মাকে ডাকাডাকি করে। কোনো শব্দ না পেয়ে মুখের উপর থেকে বালিশ সরিয়ে দেয়। মায়ের হাত-পা ঠান্ডা ও শ্বাস বন্ধ আছে বুঝতে পেরে বাসা থেকে স্কুলে যায়। প্রিন্সিপালের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবাকে ঘটনা জানায়।