সেতু ভবনে নাশকতার মামলা: দুই শিক্ষার্থী ৪ দিনের রিমান্ডে
তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে শুনানি নিয়ে বিচারক চার দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সেতু ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বনানী থানার মামলায় দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।
মামলা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাইফুর রহমানের আদালত তাদের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
ওই শিক্ষার্থীরা হলেন- ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের তাওহীদ ইবনুল বদর সাফওয়ান ও তিতুমীর কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব।
সংশ্লিষ্ট আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই শাহ আলম জানান, দুই শিক্ষার্থীকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবু সাইদ মিয়া। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষে থেকে বিরোধীতা করা হয়। শুনানি নিয়ে বিচারক চার দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
একই মামলায় মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। এর আগে তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি।
আরও পড়ুন-
মামলার এজাহারে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে গত ১৮ জুলাই অজ্ঞাতনামা আড়াইশ থেকে ৩০০ জন দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে সেতু ভবনের সামনে জড়ো হন। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। ভেতরে প্রবেশ করে যানবাহন, নিরাপত্তা ভবন, সিসি ক্যামেরা, ক্যান্টিন, গাড়িচালকদের কক্ষ, মুজিব কর্নার ও মূল ভবন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেন।
সেতু ভবনের সিনিয়র সচিব, অফিস স্টাফ ও নিরাপত্তা কর্মীদের মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগও আনা হয়েছে মামলায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সেতু ভবনের নিচ তলা থেকে ১১তলা পর্যন্ত অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। মালামাল চুরি ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথিপত্র, কম্পিউটার ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীতে আগুন দিয়ে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।
পরে সেতু ভবনের কেয়ারটেকার রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন।
