২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘কলহের জেরে’ গায়ে আগুন: মামাত ভাই ও মামার মৃত্যুর পরে ভাগ্নিকেও বাঁচান গেল না

রাজধানীর সূত্রাপুরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ওই আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Sep 2026, 09:36 PM

Updated : 25 Sep 2026, 09:48 PM

রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার এলাকায় ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে’ গায়ে পেট্রোল ঢেলে প্রবাসীর আগুন দেওয়ার ঘটনায় ঘরে আগুন লেগে দগ্ধ আরেকজন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন।

হাসপাতালের আইসিইউতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তানিয়া আক্তার (২০) নামে ওই তরুণী মারা যায়।

সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকালের ওই আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩ জনে। ওইদিন নিজ বাসায় নিজের গায়ে আগুন দিয়েছিলেন সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইমন (২৬)। শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে ইমন পরদিন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান।

এ সময় আগুনে তার বাবা মো. সিদ্দিকসহ পরিবারের আরও ৪ জন দগ্ধ হয়েছিলেন। ইমনের বাবা ৫৫ বছর বয়সি মো. সিদ্দিক বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ২টার দিকে মারা যান। আগুনে তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যাওয়া তানিয়া সম্পর্কে ইমনের ফুফাত বোন। তিনি পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী।

এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন- ইমনের চাচাত ভাই মো. রাজিব ও ফুফাত ভাই আরিফুর রহমান ধলু। এর মধ্যে রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কর্মরত ও ধলু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।

বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ সিকদার বলেন, “শুক্রবার আইসিইউতে মারা যাওয়া তানিয়ার শরীরে ৬০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এর আগে তার মামাত ভাই ইমন ও মামা সিদ্দিকের মৃত্যু হয়। আগুনের ঘটনায় এ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হল। হাসপাতালে ভর্তি বাকি দুজনের মধ্যে রাজিব ১৫ শতাংশ ও আরিফ শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।”

‘পারিবারিক কলহের জেরে’ ইমন ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছিলেন। পরদিন তিনি পেট্রোল ঢেলে নিজের গায়ে আগুন দেন বলে জানিয়েছিলেন স্বজনরা।

দগ্ধ আরিফুর রহমান ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার শনিবার বলেছিলেন, বাড়িটি তাদের পৈতৃক। ১৮ সেপ্টেম্বর বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার বাগবিতণ্ডা হয়।

“তানিয়া ময়লা পানি পরিষ্কার করতে বললে সুলতানা বিষয়টি সৌদি আরবে অবস্থানরত ভাই ইমনকে জানান। খবর পেয়ে ইমন পরদিন দেশে ফেরেন।”

সোনিয়ার ভাষ্য, “শনিবার বিকালে ইমন সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলেন, আমিও মরব, তোদেরকেও মারব। এ কথা বলেই নিজের ও অন্যদের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।”

পরে সবাইকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

‘কলহের জেরে’ গায়ে আগুন: ছেলের পরে চলে গেলেন বাবা

নিজের গায়ে আগুন দেওয়া সেই প্রবাসীকে বাঁচানো গেল না

‘কলহের জেরে’ নিজের গায়ে প্রবাসীর আগুন, দগ্ধ পরিবারের আরও ৪