Published : 15 Nov 2025, 06:58 PM
এমপিওভুক্তির দাবিতে ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের অবস্থান কর্মসূচির চতুর্দশ দিন পার করছেন।
‘ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে ২ নভেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার কর্মসূচিতে বসেছেন তারা।
শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবির বিষয়ে কোনো ‘ইতিবাচক বার্তা’ পাননি বলেছেন পরিষদের সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মুনিমুল হক।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ১৪ দিন প্রেস ক্লাবের সামনে বসা। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো ‘পজেটিভ বার্তা’ দেয়নি। আমাদের সঙ্গে আলোচনা হলেও তারা আবেদন নেবে, নিচ্ছি, নীতিমালা বদল করছি, এই ধরনের ধানাইপানাই কথা বলা হচ্ছে।”
গেল রোববার শিক্ষকরা পদযাত্রা নিয়ে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটকে দিয়েছিল পুলিশ। পরে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ মুনিমুল হকের ভাষ্য, “রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ আমাদের কোনো কঠোর কর্মসূচি আপাতত ঘোষণা না করার অনুরোধ করেছিল। সে অনুযায়ী আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালাচ্ছি। আশা করছি, চলতি সপ্তাহে আমরা কঠোর কর্মসূচি শুরু করবো।
“গত রমজান মাসে এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ১৭ দিনের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিব শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।”
দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পেয়ে ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক কর্মচারীদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে দাবি করে তিনি বলেন, “সরকারকে এমপিও নীতিমালা ও পরিপত্রের অসম খেলা বন্ধ করে সব ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার আহ্বান জানাই। তা না হলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা দাবি আদায় করবো।”
এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিলেন শিক্ষকরা। ১৭ দিন অবস্থানের পর গত ১২ মার্চ তারা শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এরপর ওইদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক সেলিম মিয়া এমপিওভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছেন বলে তুলে ধরে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছিলেন।
এ শিক্ষকরা ফের ২ নভেম্বর থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
আগের খবর:
সচিবালয় যাওয়ার চেষ্টা, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ শিক্ষকরা