১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডেপুটি স্পিকারের নামে ‘জাল’ ডিও লেটার, বরগুনার এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

কথিত ওই পত্রে সুমনকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে পদায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Aug 2026, 04:52 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের নামে জাল ডিও লেটার তৈরি এবং সেটি দিয়ে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে এক সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন।

বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে অচেনা কয়েকজনকেও।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই সংসদ সচিবালয়ের সচিবের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন, আসামি শাওন মজুমদার সুমন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের নামে একটি জাল ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) তৈরি করেন। তাতে ডেপুটি স্পিকারের সই ও সরকারি লেটারহেডও ব্যবহার করা হয়।

ওই পত্রে সুমনকে বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন বা উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।

বাদী এজাহারে লিখেছেন, পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, কথিত আধা-সরকারি পত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে দেওয়া হয়নি। তাছাড়া পত্রে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের সই, ভাষা, বিন্যাস ও অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’। ফলে প্রাথমিকভাবে এটি জাল বলে প্রতীয়মান হয়।

মামলায় বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকারের সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে; জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সরকারি নথি ও পরিচয় অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। 

একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা নষ্টের অপচেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর ভাষ্য, এ ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র জড়িত থাকতে পারে। এ কারণে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, নথিপত্র যাচাই, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ই-মেইল, প্রিন্টিং উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক ও যোগাযোগের তথ্য তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।