১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাবেক সেনা সদস্যদের ‘ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার’ পরামর্শ আইএসপিআরের

সাবেক সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আট শতাধিক আবেদন পাওয়ার কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 May 2025, 12:12 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:43 PM

সাবেক সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য পাওয়া আট শতাধিক আবেদনের মধ্যে ১০৬টি আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য পাঠানোর কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর।

বুধবার রাতে পাঠানো এক এক সংবাদ বিজ্ঞটিতে আইএসপিআর বলেছে, “অদ্যাবধি এ সংক্রান্ত মোট ৮০২টি আবেদন গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে ১০৬টি আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি ৬৯৬টি আবেদন পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই এবং মূল্যায়ন সাপেক্ষে নিষ্পত্তির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"

বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হলেও সেনাবাহিনী ‘সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গে’ কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ড’ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

সেখানে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বাস করে—পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহানুভূতি ও যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলার মাধ্যমেই প্রতিটি সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা সম্ভব। একই সাথে, যে কোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা বজায় রাখার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।”

আইএসপিআর বলছে, “সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় সাবেক সেনাসদস্যের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কিছু আবেদন উত্থাপিত হয়েছে যা সেনাসদর সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে।

“মানবিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এ সকল আবেদন যথাযথভাবে পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে সেনাসদরে উচ্চপর্যায়ের একটি পর্ষদ গঠিত হয়েছে এবং এই পর্ষদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার গৌরবময় ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের পেশাদারত্ব, নিরলস পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলার মাধ্যমে অর্জন করেছে। এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রশ্নাতীত আনুগত্য, সততা ও আত্মত্যাগই আজকের এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। সামরিক শৃঙ্খলা একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর মূল চালিকাশক্তি। সামরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযোগ্য পুরস্কার ও শাস্তি প্রদানের বিধান রয়েছে।"

দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সকল সদস্যদের অবদান স্বীকার্য করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “জাতি তা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে।”

সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সাবেক সেনাসদস্যদের প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায্য দাবির প্রতি ‘সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে আশ্বস্ত করেছে আইএসপিআর।