এমন অবস্থায় ঢাকার কিছু স্কুল নিজেদের মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Published : 01 May 2024, 11:57 PM
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় স্কুল খোলা রাখা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন মাধ্যমিকের স্কুলপ্রধানরা।
বৃহস্পতিবার স্কুল খোলা থাকবে কি না তা সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা।
অভিভাবকরাও এ বিষয়ে জানতে না পেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, মন্ত্রণালয়ের 'দুর্বল অবস্থান' পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন না।
টানা দাবদাহের মধ্যে সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রাথমিকে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাপমাত্রা অনুযায়ী দৈনিক ভিত্তিতে জেলাওয়ারি মাধ্যমিক স্কুল বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে আসছিল। সে হিসাবে মঙ্গলবার ২৭ জেলায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল বন্ধ থাকলেও দেশের বাকি অংশে ক্লাস চলেছে।
বুধবার মে দিবস হওয়ায় সরকারি ছুটিতে স্কুল বন্ধ ছিল। এদিনও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। আর বৃহস্পতিবারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত রাত ১০টা পর্যন্ত আসেনি।
যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এ বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি।
এতে করে স্কুল খোলা রাখার কী হবে তা নিয়ে দোটানায় শিক্ষকরা এবং অভিভাবকরা রয়েছেন কোনো তথ্য না পাওয়ার অন্ধকারে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে স্কুল বন্ধ রাখা নিয়ে হাই কোর্টের আদেশ। এর মধ্যে সোমবার উচ্চ আদালত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আদেশ দেয়।
এমন অবস্থায় ঢাকার কিছু স্কুল নিজেদের মত সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।
এ আদেশ আসার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা হলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ঈদের ছুটির পর টানা তাপপ্রবাহের মধ্যে গত ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্কুল-কলেজে ছুটি বাড়িয়েছিল সরকার।
অসহনীয় গরমের কারণে অভিভাবকদের উদ্বেগের মধ্যে এরপর গত রোববার শ্রেণিকক্ষে ফেরে শিক্ষার্থীরা। ওইদিনই বিভিন্ন জেলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর আসে।
পরে তাপমাত্রা অনুযায়ী দৈনিক ভিত্তিতে জেলাওয়ারি স্কুল বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে আসছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার ২৭ জেলায় স্কুল বন্ধ থাকলেও দেশের বাকি অংশে ক্লাস চলেছে।
আর আদালতের আদেশের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ওইদিন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা স্কুল বন্ধের বিষয়ে আদালতের কোনো আদেশ পাননি। আদেশ না পেলে তা যে মানার সুযোগ নেই সেটিও জানান তিনি।
এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার স্কুল খোলার বিষয়ে কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যার উত্তর আসেনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে।
বুধবার রাতে ঢাকার সরকারি-বেসরকারি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা রাত পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলেন।
তারা মনে করেন, কী করতে হবে তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই দ্বিধায় রয়েছে, তাই কৌশল হিসেবে কোনো নির্দেশনা জানায়নি। এ কারণে নিজেদের মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছেন শিক্ষকরা।
শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান কুমার সাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তারা স্কুল বন্ধ রাখবেন।
"হাই কোর্টের আদেশ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও কিছু জানায়নি। তাই আমরা স্কুল বন্ধ রাখব।"
মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল খোশনবিশ বলেন, ধোঁয়াশা না কাটায় তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানের সংরক্ষিত ছুটি কাজে লাগিয়ে বৃহস্পতিবার স্কুল বন্ধ রাখবেন।
"বাচ্চাদের নিয়ে আমরা ছিনিমনি খেলতে পারব না। আমার তিন দিনের সংরক্ষিত ছুটি আছে। সেখান থেকে বাচ্চাদের ছুটি দিব।"
ঢাকার তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার বলেন, "হাই কোর্ট বললো স্কুল বন্ধ। কিন্তু মন্ত্রী বললেন নির্দেশ পাননি, তার মানে তারা স্কুল খোলা রাখতে চায়। আজকে আবার কোনো নির্দেশনা মন্ত্রণালয় দেয়নি।
"তারা একটা ধোঁয়াশায় রেখেছে। আমরা এসবে যেতে চাই না। আমরা আদালতের প্রতি সম্মান দেখাব। মন্ত্রণালয় আদালতের আদেশের কপি না পেলেও এটা তো পাবলিক হয়ে গেছে। আমরা স্কুল বন্ধ রাখব।"
অভিভাবকরা বলছেন, স্কুল খোলা থাকবে না বন্ধ থাকবে সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট জানানো উচিত ছিল।
মালিবাগের ফায়জুর রহমান আইডিয়াল ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল করিম বলেন, স্কুলের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে বুধবার ক্লাস বন্ধ রাখার তথ্য পেয়েছেন।
"এটা নিয়ে টেনশনের মধ্যে ছিলাম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল আগেই এটি স্পষ্ট করা। উল্টো তারা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, যা দুঃখজনক।"
মিরপুরের লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের একজন অভিভাবক ইফতেখার আলমও বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত ছিল।
"এর সঙ্গে লাখ লাখ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক জড়িত। এটা নিয়ে কানামাছি খেলার তো কোনো সুযোগ নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তারা গোয়ার্তুমি করে স্কুল খোলা রাখবে। কিন্তু সেটা আবার স্পষ্ট জানাতে লজ্জা পাচ্ছে।"
আরও পড়ুন:
দাবদাহ: ২ মে পর্যন্ত প্রাথমিক, ২৭ জেলার মাধ্যমিক ও কলেজ মঙ্গলবার বন্ধ
স্কুল বন্ধের আদেশ পাইনি: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুল-মাদ্রাসা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হাই কোর্টের নির্দেশ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ: নওফেল তুললেন এখতিয়ারের প্রশ্ন