২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্ধ তিন পাটকল ইজারা পেল দুই কোম্পানি, চুক্তি স্বাক্ষর

“চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে।”

বন্ধ তিন পাটকল ইজারা পেল দুই কোম্পানি, চুক্তি স্বাক্ষর
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 08:05 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:31 PM

বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর প্রক্রিয়ায় দুই কোম্পানির সঙ্গে তিনটির ইজারা চুক্তি করেছে সরকার।

এর মধ্যে দুটির ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, আর অন্যটি পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

রাষ্ট্রায়ত্ত এ তিনটি কারখানা হচ্ছে, সিরাজগঞ্জের জাতীয় ‍জুট মিলস লিমিটেড, খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ও প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড। 

চুক্তি অনুযায়ী জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা নিয়েছে প্রাণ আরএফএল গ্রপ। প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন-বিজেএমসির সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান ও হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে তিনটি পাটকল ইজারার চুক্তি হয়। ছবি: পিআইডি

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে তিনটি পাটকল ইজারার চুক্তি হয়

প্রধানমন্ত্রীর ‍উপ প্রেস সচিব বলেন, “চুক্তির আওতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে।”

তিনি বলেন, মিল তিনটি চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। মিলগুলোর সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলা হয়, সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জাতীয় জুট মিলসে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বার্ষিক মোট আয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে।

খুলনার দিঘলিয়ায় স্টার জুট মিলসে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি ইজারার ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

“ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পন্ন করে ইজারাগ্রহীতাদের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর মধ্যে নয়টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।”

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।