Published : 26 Sep 2025, 12:22 AM
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভিওসা ওসমানির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক হয়েছে।
বুধবার নিউ ইয়র্কের একটি হোটেলে এ বৈঠকে অভিবাসন, বাণিজ্য এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাসস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ওসমানি কসোভোর প্রতি বাংলাদেশের প্রাথমিক ও ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ যে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপীয় দেশটিকে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী রাষ্ট্রগুলোর একটি, সে কথা তিনি স্মরণ করেন।
কসোভোর সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ টানা দ্বিতীয় বছরের মত দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
প্রেসিডেন্ট ওসমানি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কসোভো সফলভাবে অর্থনীতি পুনর্গঠন করেছে এবং বর্তমানে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে স্বীকৃত।
তিনি বলেন, কসোভোতে কাজ করা বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তারা।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে প্রেসিডেন্ট ওসমানি বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে কয়েকটি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেন। বিশেষভাবে তিনি বস্ত্র খাতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির সুপারিশ করেন এবং এ খাতে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুফলের ব্যাপক সম্ভাবনার কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস প্রেসিডেন্ট ওসমানিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং কসোভোর একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলকে ঢাকায় পাঠানোর আহ্বান জানান, যাতে তারা অর্থনৈতিক সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে পারে।
ইউনূস দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যুব বিনিময় কর্মসূচির পক্ষে মত দেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করবে।
বৈঠকে উপস্থিত আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি চুক্তি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করবে এবং উভয় দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশি শ্রমিকরা কসোভোর আতিথেয়তা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।”
এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।