১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাড়তি দরে ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

পাঁচ দিনের ব্যবধানে ব্যয় বাড়ল ১৩ থেকে ২৯ কোটি টাকা।

বাড়তি দরে ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
এলএনজি গ্যাস ট্যাঙ্কার। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 06:00 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:00 PM

পাঁচ দিন আগে যে দরে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার চাইতেও ৩২ থেকে ৭০ সেন্ট বাড়তি দরে দুই কার্গো গ্যাস কেনার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার।

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সোমবার ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এর মধ্যে এক কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) খরচ দেখানো হয়েছে ২৪ দশমিক ৬২৫ ডলার, অন্যটিতে এ দর ধরা হয়েছে হয়েছে ২৪ দশমিক ২৫ ডলার।

গেল সপ্তাহেই (১৯ অগাস্ট) ক্রয় কমিটির বৈঠকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়; সেখানে প্রতি এমএমবিটিইউ খরচ ধরা হয়েছিল ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার। তার মানে প্রতি এমএমবিটিইউ কেনায় খরচ বাড়ল ৩২ থেকে প্রায় ৭০ সেন্ট ডলার।

জাহাজের আকারভেদে কার্গোর ধারণক্ষমতা কম-বেশি হতে পারে। বাংলাদেশে যেসব কার্গো আসে, সাধারণত সেগুলোতে ৩২ লাখ থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে। 

এ হিসাবে নতুন দর অনুযায়ী এক কার্গো এলএনজি কেনায় ৮ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা ১ হাজার ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা (১২২ দশমিক ৫০ টাকা বিনিময় হার ধরে) পর্যন্ত হওয়ার কথা।

আর তা হলে পাঁচদিন আগে কেনা এলএনজির তুলনায় কার্গো প্রতি ১৩ কোটি ১৭ লাখ থেকে ২৮ কোটি ৮১ লাখ টাকার মতো বাড়তি খরচা হতে পারে।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি মূল্যে এলএনজি কেনার ব্যয় প্রকাশ করে আসছিল। তখন বেশিরভাগ সময়ই কার্গো প্রতি খরচা ৭০০ কোটি টাকার আশপাশে ছিল। জুলাইয়ে তা বাড়তে বাড়তে ৯৪৩ কোটি টাকা ছাড়ায়।

গত ৩০ জুলাই ক্রয় কমিটির বৈঠকে যে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়, তাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর ২৬ দিনের মাথায় এলএনজির প্রতি কার্গো কেনায় ৭০ কোটি টাকার মতো বাড়তি খরচ হচ্ছে।

গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়। পরে কারিগরি সমস্যা ও কার্গোর স্বল্পতায় সেখানকার সরবরাহ কয়েক দফা ওঠানামা করে।

এর মধ্যে তিন দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার দুপুর থেকে মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

ওইদিন দুপুরে নতুন একটি এলএনজি কার্গো ভিড়েছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এ টার্মিনালে।