১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মানব পাচারের মানবিক ক্ষতি পরিমাপ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মানব পাচার রোধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।

শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মানব পাচারের মানবিক ক্ষতি পরিমাপ সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 12:19 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইনে ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে আন্তর্জাতিক যেসব চক্র মানব পাচারে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

‘বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন’ এর মোড়ক উন্মোচন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মানব পাচার কেবল ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদাকেই ধ্বংস করে না, এটি সমাজের মূল ভিত্তিকেও চরমভাবে আঘাত করে। প্রযুক্তিভিত্তিক অপরাধের এই বিস্তার রুখতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মানব পাচারের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতি পরিমাপ করা সম্ভব নয়।”

‘লিসেন’ গ্রন্থের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এখানে সারভাইভারদের যে করুণ বাস্তব অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা সমাজে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং এই অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে মানব পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুর অভিজ্ঞতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে নির্মিত এটিই প্রথম তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ।

চলতি বছরের ‘বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস’-এর প্রতিপাদ্য ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম’ এর প্রসঙ্গ ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড, সাইবার স্ক্যাম এবং দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করছে।”

তিনি বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি’ শীর্ষক একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে।

তার ভাষ্য, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পরিচালিত মানব পাচারের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ভাবনী উপায়ে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

মানব পাচার প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কোনো একক দেশ বা সরকারের পক্ষে এই অপরাধ সম্পূর্ণরূপে দমন করা সম্ভব নয়।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত অংশীদারত্বের মাধ্যমে এ অপরাধ মোকাবিলা সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কইকা) বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন লরা টম বন্ডে।

বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

বাংলাদেশ সফররত আইওএমের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলসকেও এ সময় আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়।