Published : 14 Jan 2026, 02:44 PM
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ-পরবর্তী সময়ের মত বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া ‘এই মুহূর্তে সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় সাবেক দুই মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, “সাবেক শাসকরা এখনো তাদের অপরাধ অস্বীকার করে যাচ্ছে; ফলে এ ধরনের প্রক্রিয়া শুরুর পরিবেশ তৈরি হয়নি।”
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় দায়িত্ব পালন করা সাবেক দুই মার্কিন কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মোর্স ট্যান এদিন সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানেই ‘ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের সম্ভাব্যতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
নেলসন ম্যান্ডেলার ‘বন্ধু’ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘সত্য ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়া’ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরে ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে এখনো সেরকম উদ্যোগ নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
“এখনও উপযুক্ত সময় আসেনি। কোথা থেকে শুরু করবেন? সত্য ও জাতীয় পুনর্মিলন তখনই আসে, যখন আপনি স্বীকার করেন যে আপনি ভুল ছিলেন, যখন আপনি আপনার অপরাধের জন্য অনুশোচনা ও অনুতাপ দেখান এবং সঠিক পরিবেশ সৃষ্টি করেন।
“কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের (সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার) কোনো অনুতাপ নেই। বরং তারা দাবি করছে, জুলাই আন্দোলনের সময় নিহত যুবকদের হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তাদের অপরাধের পাহাড় সমান প্রমাণ আছে, সেগুলো সব জঘন্য অপরাধ, তবুও তারা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।”
বর্ণবাদের বিভাজন দূর করে সংহতি ফিরিয়ে আনতে ১৯৯৫ সালে ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সত্য উদ্ঘাটন, বিচার ও পুনর্মিলনের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে দেশটিতে ওই কমিশন করা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে দেশে গুম, খুন, হত্যার মত নানা রাষ্ট্রীয় অপরাধের ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক যে ‘ক্ষত’ তৈরি হয়েছে, তা সারাতে এবং অপরাধীদের ‘শোধরাতে’ দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে এরকম কমিশন গঠনের আলোচনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই ছিল।
কলামিস্ট ও চিন্তক ফরহাদ মজহার গত বছর মে মাসে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আলোচনা অনুষ্ঠান ইনসাইড আউটে বলেছিলেন, এই সতান্বেষণ আর বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যদি মীমাংসা করা না হয়, ক্ষত যদি সারানো না যায়, তাহলে সমাজে বড় ধরনের ‘অস্থিতিশীলতা’ দেখা দেওয়ার শঙ্কা থেকে যাবে।
কী করবে সেই কমিশন? ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, এই কমিশন অবশ্যই অপরাধীর বিচারের ব্যবস্থা করবে। সেই সঙ্গে অপরাধগুলো কেন ঘটেছে, কারা এর হুকুম দিয়েছে, কারা করেছে, তা খুঁজে বের করবে। যারা হুকুমের অধীন হয়ে অপরাধ করেছে, কমিশনের কাছে তারা অপরাধ স্বীকার করবে, কারণ ‘স্বীকারোক্তি ছাড়া ক্ষমা মেলে না’।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও সে সময় এক অনুষ্ঠানে ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের প্রস্তাব ভেবে দেখার কথা বলেন।
তবে পরে ওই বছর জুন মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।