১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বুলেট: সাখাওয়াত কেন অবাক হয়েছিলেন, তা ভেবেই ‘অবাক’ জাহেদ

পুলিশের হাতে ওই অস্ত্র ‘সকাল-বিকাল দেখা যায়’ মন্তব্য করে জাহেদ উর রহমান বলেন, “সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা, যিনি একজন সেনা কর্মকর্তা, তিনি কীভাবে এ প্রশ্ন করেছিলেন তখন, আমি আসলেই জানি না।"

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 03:34 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের চায়নিজ রাইফেল এবং ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ মিলিমিটার বোরের গুলি ব্যবহার নিয়ে অন্তবর্তী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন কেন অবাক হয়েছিলেন, তা বুঝতে পারছেন না বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, পুলিশের হাতে যেসব অস্ত্র থাকে, তার মধ্যে একটি হল 'টাইপ ফিফটি সিক্স' রাইফেল, যাকে সাধারণভাবে চায়নিজ রাইফেল বলা হয়। সেই অস্ত্রেই 'সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু' বোরের গুলি ব্যবহার করা হয়। 

পুলিশের হাতে ওই অস্ত্র ‘সকাল-বিকাল দেখা যায়’ মন্তব্য করে জাহেদ উর রহমান বলেন, “সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা, যিনি একজন সেনা কর্মকর্তা, তিনি কীভাবে এ প্রশ্ন করেছিলেন তখন, আমি আসলেই জানি না।"

এম সাখাওয়াত হোসেন উপদেষ্টা থাকাকালে বলেছিলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘বেসামরিক পোশাক পরা’ কিছু ব্যক্তির হাতে কীভাবে এই ধরনের রাইফেল দেখা গেল, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সে প্রসঙ্গ ধরে মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওই অস্ত্র ও গুলির বিশদ বর্ণনা দেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, "সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বুলেট নিয়ে আমরা অনেক কথা বলেছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টাও বলেছেন। আমি অবাক হয়েছি, উনি কেন অবাক হয়েছেন সেটা দেখে।”

জাহেদ উর রহমান বলেন, "অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের কাছে লেথাল উইপন ছিল। বিজিবির কাছেতো ছিলই। বিজিবির গুলি করার ছবি আছে। পুলিশের টাইপ ফিফটি সিক্স উইপন দিয়ে গুলি করার ছবি আছে, ভিডিও আছে।"

টাইপ ফিফটি সিক্স রাইফেল পুলিশের হাতে যাওয়ারই কথা ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, "পুলিশের হাতে শটগান থাকবে, আর লেথাল উইপন হিসেবে থাকবে পিস্তল, যেটা শর্ট রেঞ্জ। টাইপ ফিফটি সিক্সের প্রবলেম হল, ওটার রেঞ্জ অনেক লম্বা। চারশ মিটার পাঁচশ মিটার লেথাল রেঞ্জ থাকে। গুলি যখন মিস হয়, সেটা বহু দূরের মানুষকে হত্যা করতে পারে। 

“(এ অস্ত্র) স্পেশাল পুলিশের হাতে থাকতে পারে। সাধারণ পুলিশের হাতে এ অস্ত্র থাকে না।…এটা আসলে সেনাবাহিনীর হাতে ছিল। পরে যখন সেনাবাহিনী অটোমেটিক অস্ত্র ব্যবহার শুরু করল, সম্ভবত সেটা বিজিবির কাছে, শেষে পুলিশের কাছে এল। ওই অস্ত্র হয়ত পুলিশ ব্যবহার করেছে। ওটারই বুলেট সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু।”

জুলাই আন্দোলনের সময় স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করার যে অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তার ধারণা, চায়নিজ রাইফেলের পাল্লা যেহেতু দীর্ঘ, সেই অস্ত্রের গুলিতেই বহু দূরের মানুষের প্রাণ গেছে।

উপদেষ্টা বলেন, “স্নাইপার…  কোত্থেকে যেন এই অদ্ভুত কথা আসছে। আমি অবাক হয়ে যাই… কোত্থেকে লুকিয়ে কোথা থেকে এসে স্নাইপার গুলি করেছে… এরকম না।"

স্নাইপার ব্যবহার নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচারের প্রসঙ্গ ধরে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, "আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রচারণা আছে যে, আন্দোলনের পক্ষে থাকা মানুষ, হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে থাকা মানুষ স্নাইপার ব্যবহার করে মানুষ মেরেছে হাসিনাকে বিপদে ফেলার জন্য। এটা একটা ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা আছে। এটা টোটালি রং।”