১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রকাশ্যে মাথা থেঁতলে হত্যা: রিমান্ডে আরও ২ আসামি

কেরাণীগঞ্জে ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে শুক্রবার আলমগীর ও মনিরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jul 2025, 06:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে মাথা থেঁতলে হত্যার মামলায় আরও দুই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত।

ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ রোববার বিকালে তাদের চার দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন মো. আলমগীর ও মনির ওরফে লম্বা মনির।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তানভীর মোর্শেদ চৌধুরী রিমান্ডের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এদিন দুই আসামিকে আদালতে তুলে প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান। 

এ মামলায় বৃহস্পতিবার মাহমুদুল হাসান মহিনকে পাঁচ দিনের এবং শনিবার  টিটন গাজীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত।

এ ঘটনায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় বৃহস্পতিবার তারেক রহমান রবিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বুধবার বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে এবং নেপথ্যে যাদের নাম আসছে, তারা সবাই পূর্ব পরিচিত। একসময় তাদের কয়েকজন সোহাগের ব্যবসার সহযোগী ছিলেন। 

এ ঘটনায় নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার মামলা করেন। এরপর পুলিশ মাহমুদুল হাসান মহিন ও তারেক রহমান রবিনকে  গ্রেপ্তার করে। 

এরপর শুক্রবার কেরাণীগঞ্জ ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে আলমগীর ও মনির ওরফে লম্বা মনিরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। একই দিন টিটন গাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের পরের দিন ঘটনার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

ভিডিওতে দেখা যায়, মিটফোর্ডের ৩ নম্বর গেটের ভেতর থেকে প্রায় বস্ত্রহীন ও রক্তাক্ত এক যুবককে দুইজন টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে গালে চড় মারছেন একজন। আরেকজনকে বুকের ওপর লাফাতে দেখা যায়। আরেকজন এসে প্রায় নিস্তেজ যুবকের মাথায় লাথি মারে এবং একপর্যায়ে পাশে থাকা কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে মাথায় আঘাত করে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বহিষ্কার করা হয় বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠনের পাঁচজনকে।

আরও পড়ুন

মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী খুনের দুই মামলায় ২ জন রিমান্ডে

মিটফোর্ডে হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ীকে মাথা থেঁতলে হত্যা

প্রকাশ্যে মাথা থেঁতলে হত্যা: চারজন গ্রেপ্তার, বহিষ্কার বিএনপির ৫ জন