১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চায়ের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে দেশি চা

“নতুন বাজারের দিকেও আমরা নজর দিয়েছি; ২০২৬ সালে রপ্তানি দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছি,” বলছেন চা বোর্ড চেয়ারম্যান।

আবদুর রহিম হারমাছি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2026, 01:10 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

আশির দশকে যখন তৈরি পোশাক রপ্তানি শুরু হয়নি, তখন সোনালি আঁশ পাটের পর দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল চা। এ দুই খাত থেকেই আসত বিদেশি মুদ্রার সিংহভাগ।

পাটের মত চা ছিল তখন বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল। রপ্তানি করে আয় হত প্রচুর বিদেশি মুদ্রা। নব্বই দশকে চা রপ্তানির রমরমা সময়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম।

এখন সেই চিত্র আর নেই। চা রপ্তানিকারক এ দেশ সময়ের পরিক্রমায় পরিণত হয়েছিল আমদানিকারকে। তবে সুখবর হচ্ছে, আমদানি এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

রপ্তানি তলানিতে নামলেও উৎপাদনে চমক দেখিয়ে চলেছে চা। বছর বছর উৎপাদন বাড়তে থাকা পণ্যটি দেশের চাহিদা মেটানোর পরও বেশ কিছু অবশিষ্ট থাকছে; যা রপ্তানি করতে পারলে আসবে আরও কিছু বিদেশি মুদ্রা আসবে।

এজন্য চা রপ্তানির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার ও বেসরকারি খাতকে সম্মিলিতভাবে নতুন পরিকল্পনা সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশে। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এ অর্থের পরিমাণ ৪১ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এ অর্থ আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৯ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে ৪১ লাখ ডলার আয় হয়েছিল।

অথচ পঞ্চাশ বছর আগে ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ যে আয় করেছিল, তার ৭ দশমিক ২৫ শতাংশই এসেছিল চা থেকে। ওই আর্থিক বছরে ৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিলেন রপ্তানিকারকরা, যার মধ্যে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এসেছিল চা রপ্তানি থেকে।

রপ্তানিকারকরা বলেন, ওই সময় দেশের মানুষ খুব একটা চা পান করত না; যা উৎপাদন হতো, তার প্রায় পুরোই বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হত। পরের ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়, যা ছিল মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ। ওই বছরে অবশ্য পোশাক রপ্তানি থেকে ১২ হাজার ডলার আয় হয়েছিল, যার মধ্য দিয়ে পোশাক রপ্তানির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল।

এরপর থেকে ১৯৯৮-৯৯ আর্থিক বছর পর্যন্ত চা রপ্তানি থেকে আয় ৩ থেকে ৮ কোটি ডলারের মধ্যে ছিল। তবে ডলারের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে চা রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছিল ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে; ওই বছরে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের চার রপ্তানি হয়েছিল। ১৯৯৯-২০০০ সাল থেকে কমতে কমতে তা তলানিতে নেমে এসেছে।

চা শিল্প মালিক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার পোশাক শিল্পের প্রতি অতি বেশি মাত্রায় নজর দেওয়ায় এবং সব ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা এ শিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়ায় চা রপ্তানিতে হতাশা নেমে আসে।

তবে পুরনো চা বাগানের মালিক ও নতুন কিছু উদ্যোক্তা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় উৎপাদন বেড়ে ১০ কোটি কেজির মাইলফলক অতিক্রম করে। এতে দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটিয়ে চা শিল্পে বিপ্লব ঘটেছে বলে তারা মনে করেন।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (যুগ্মসচিব, অর্থ ও বাণিজ্য) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এতদিন আমরা উৎপাদন বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছিলাম। সফল হয়েছি। উৎপাদন যদি না বাড়ত, তাহলে কিন্তু আমাদের আমদানি করতে হত; প্রচুর বিদেশি মুদ্রা চলে যেত।

“এখন আমরা রপ্তানি বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছি। সেই উৎপাদন আরও বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত আছে। সরকারও সেটাই চাচ্ছে। আশা করছি, চা রপ্তানিতে ধীরে ধীরে আগের গৌরব ফিরে আসবে।”

দেশের চা-বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন চেয়ারম্যান এবং কাপনা টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরান তানভিরুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে ৩ কোটি কেজি চা উৎপাদন হত। এখন তা তিনগুণের বেশি বেড়ে ১০ কোটি কেজিতে পৌঁছেছে। এই সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি কেজির মত।

“এই যে বিপুল পরিমাণ চাহিদা, যেটা বেড়েছে—সেটা যদি আমরা উৎপাদন করতে না পরতাম, আমদানি করতে হত; তাহলে কিন্তু প্রচুর বিদেশি মুদ্রা চলে যেত।”

চা রপ্তানি বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “এখন আমাদের যে কাজটা করতে হবে, সেটা হল এই যে আমাদের চাহিদার চেয়ে ১ কোটি কেজির মত বেশি উৎপাদন হচ্ছে—সেটার পুরোটাই রপ্তানি করতে হবে। আর এইটার জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।”

প্রতি কেজি চায়ের বর্তমান আন্তর্জাতিক গড় বাজার দর ২ দশমিক ৮০ ডলার হিসাবে এই ১ কোটি কেজি চায়ের দাম পড়বে ২৮ কোটি ডলার। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার প্রায় ১২৪ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার মত।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান চা আমদানি বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রয়োজনে শুল্ক আরও বাড়াতে হবে। এটাও শুনি যে, পাশের দেশ থেকে অবৈধ পথে অনেক চা আমাদের দেশে আসে। এটাকে বন্ধ করতে হবে।”

একই সঙ্গে তিনি দেশে কফি উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপের পাশাপাশি কফি আমদানি বন্ধ করতে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর তাগিদ দেন।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকসের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা যেভাবে উৎপাদনে ভালো করছি, সেভাবে রপ্তানিতে এগিয়ে যেতে পারছি না। সেটা দুঃখজনক। এখন আমাদের রপ্তানি বাড়ানোর দিকে জোর দিতে হবে।”

চলতি বছর রপ্তানি দ্বিগুণ হবে–এমন আশার কথা শুনিয়ে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “গত বছর আমরা ১৭ লাখ কেজি চা রপ্তানি করেছিলাম। বিশ্ববাজারে আমাদের চায়ের চাহিদা বেড়েছে। নতুন বাজারের দিকেও নজর দিয়েছি।“

রপ্তানিতে শীর্ষে ‘সিলন চা’

চা রপ্তানিতে ১৫টি কোম্পানির মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আবুল খায়ের গ্রুপের ‘সিলন চা’। তবে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানির চা রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ লাখ ৯১ হাজার কেজি ‘সিলন চা’ রপ্তানি হয়েছে; আয় হয়েছে ১১ কোটি ৯২ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮ লাখ ৬৯ হাজার কেজি ‘সিলন চা’ রপ্তানি হয়; আয় হয়েছিল ২০ কোটি ৯৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।

গত অর্থবছরে চা রপ্তানি থেকে মোট ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ৬ হাজার টাকা আয় হয়েছে। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, মোট রপ্তানি আয়ের ৩৫ দশমিক ৭১ শতাংশ এসেছে ‘সিলন চা’ থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ৪৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

মোট রপ্তানির ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ করে দ্বিতীয় অবস্থানের রয়েছে দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানির ‘ফিনলে টি’। কোম্পানিটি ৫ লাখ ১০ হাজার কেজি চা রপ্তানি করে আয় করেছে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইস্পাহানি গ্রুপ; রপ্তানিতে এ কোম্পানির হিস্যা ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ, তাদের আয় ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে ‘সিটি’ ও ‘ভিভিডভেঞ্চার’। বিদেশে চা রপ্তানিতে আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে।

উৎপাদনে বিপ্লব

উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বাড়ায় আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছিল চা শিল্প। চাহিদা মেটাতে ২০১০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আমদানিও শুরু হয়। চা আমদানিনির্ভর হয়ে যাবে কি না, এমন শঙ্কাও ছিল।

তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে চাহিদার চেয়ে বেশি চা উৎপাদন করে চা শিল্পে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন উৎপাদকরা। শুধু তা–ই নয়, এই অঞ্চলে ১৭১ বছরের চা চাষের ইতিহাসে উৎপাদনেও রেকর্ড হয়েছে। আগের মত আর আমদানি করতে হচ্ছে না।

১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানের মাধ্যমে এই অঞ্চলে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২৩ সালে ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার (১০২.৯২ মিলিয়ন) কেজি চা উৎপাদন হয় দেশে। পরের দুই বছরেও (২০২৪ ও ২০২৫) প্রায় ১০ কোটি কেজি উৎপাদন হয়। চলতি ২০২৬ সালেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

চা বোর্ডের কর্মকর্তা ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চা উৎপাদনে রেকর্ড সাফল্যের নেপথ্যে আছে গত এক দশকে সরকার ও বাগান মালিকদের নেওয়া নানামুখী পদক্ষেপ।

উত্তরাঞ্চলে পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানে চা চাষের আওতা বাড়ছে। পরিত্যক্ত বাগান চা চাষের আওতায় এসেছে। কয়েক বছর ভালো দাম পাওয়ায় বাগান মালিকেরাও নতুন বিনিয়োগ করেছেন। বাগানে প্রযুক্তিগত ব্যবহারও বেড়েছে।

চলতি বছর চায়ের উৎপাদন ১০ কোটি কেজির বেশি হবে দাবি করে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ বলেন, “জুন পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭০ লাখ কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। এবার আমরা লক্ষ্যমাত্রা ধরেছি ১০ কোটি ৪০ লাখ (১০৪ মিলিয়ন) কেজি। আশা করছি, বছর শেষে লক্ষ্য অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড হবে।”

তিনি বলেন, “চায়ের উৎপাদন বাড়াতে আমরা পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য এই সময়ের মধ্যে উৎপাদন ১২৫ থেকে ১৩০ মিলিয়ন (১২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১৩ কোটি) কেজিতে নিয়ে যাওয়া। আশা করছি, চা শ্রমিক, বাগান মালিক ও সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেটা সফল হবে।”

আমদানি কমছে

উৎপাদন বাড়লেও থেমে নেই আমদানি। তবে আগের থেকে কমেছে। আগামীতে একেবারেই কমে আসবে বলে আশা চা বোর্ডের সদস্য ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির।

তিনি বলেন, “যে চা এখন আমদানি হয়, তার পরিমাণ বেশি নয়। মূলত বেশি দামের চা আমদানি হয়; যেগুলো কিছু ধনিক শ্রেণির লোক পান করেন। এছাড়া বিদেশিদের জন্য ফাইভ স্টার হোটেলে আমদানি হয়ে থাকে।”

আমদানি বাড়তে থাকায় দেশের চা শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ২০১২ সালে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (রেগুলেটরি ডিউটি) আরোপ করে তৎকালীন সরকার। সেই শুল্ক বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে।

উচ্চ শুল্কের কারণে আমদানি নিয়ন্ত্রণে এলেও রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ সালে ৪০ লাখ ১৩ হাজার কেজি চা আমদানি হয়েছিল দেশে। ২০১০ সালে তা বেড়ে ৪৯ লাখ ৮০ হাজার কেজিতে ওঠে। ২০১১ সালে তা কমে ১৯ লাখ ২০ হাজার কেজিতে নেমে আসে। ২০১২ সালে তা ফের বেড়ে ১ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার কেজিতে ওঠে। ২০১৩ সালে অবশ্য কমে ৬৯ লাখ ৬০ হাজার কেজিতে নেমে আসে।

এরপর থেকে চা আমদানি কমছেই। ২০২০ সালে দেশে ৬ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা আমদানি হয়। সবশেষ ২০২৫ সালে ৫০ হাজার কেজি চা আমদানি হয়েছে।

চায়ের উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানিসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় চা রপ্তানি কমেছে।

“দেশীয় চা শিল্প সুরক্ষার লক্ষ্যে চা আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, চা উৎপাদন বাড়ানো, গুণগত মান উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মকৌশল প্রণয়নের জন্য সরকার ২০২৬ সালের ৭ জুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২৫ বছরে চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি

দেশে ২৫ বছরে চাহিদা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০০১-০২ অর্থবছরে চাহিদা ছিল ৪০ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন (৪ কোটি ৪ লাখ ৪১ হাজার) কেজি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন কেজি হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, “ভালো খবর যে, চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনও বেড়েছে। তা নাহলে আমদানির লাগাম টানা যেত না।

“দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। তার সঙ্গে তালমিলিয়ে মানুষের চা পান করার প্রবণতা বেড়েছে। সে কারণেই চাহিদা বেড়েছে।”