Published : 30 Jun 2025, 12:33 AM
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেইসবুকে দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ দাবির’ যে অভিযোগ করেছিলেন তার ধারাবাহিকায় চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে দুদক বলেছে, তারা একটি প্রতারক চক্রের সদস্য। দুদকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার নিষ্পত্তির নামে প্রতারণা করে আসছিলেন তারা।
গ্রেপ্তার হওয়া এই ব্যক্তিরা হলেন- পিরোজপুরের মোহাম্মদ সেলিম (৪০), বাগেরহাটের মো. তরিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার মো. আতিক (৩৮) ও নোয়াখালীর মো. আব্দুল হাই সোহাগ (৩৫)।
দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ২৪ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফেইসবুক পোস্ট দুদকের নজরে আসে।
তিনি বলেন, পোস্টটি আমলে নিয়ে বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক পরিচালকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি করা হয়।
র্যাব ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় শনিবার রাতে প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করে চক্রের মূলহোতা সেলিমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার কথা বলেছেন দুদকের এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে একটি সনি ডিজিটাল এইচডি ক্যামেরা, বুম মাইক্রোফোন, সেলফি স্টিক, দুটি পাসপোর্ট, সমকাল পত্রিকার একটি আইডি কার্ড, সমকাল, এশিয়ান টিভি ও এফসি টিভিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ড, সোনালী ব্যাংকের একটি চেক বই, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং ১৩টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
দুদকের ডিজি বলেন, “প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দুদকের চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক বা কর্মকর্তার পরিচয়ে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মামলার নিষ্পত্তির নামে প্রতারণা করে আসছিল।”
তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই চক্রটি গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দুদকের নজরে আসে। তারা ফেইসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে এবং মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। সেই সময় থেকেই চক্রটিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে কাজ চলছিল।”
দুদকের আরেক ডিজি (প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তি) আবদুল্লাহ-আল-জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, “প্রতিটি অপরাধের একটি নির্দিষ্ট ধরন থাকে—তারা যে মোবাইল নম্বর ও ডিভাইস ব্যবহার করেছে, সেগুলোর আইএমইআই নম্বর ট্র্যাক করে অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে।
“সন্দেহভাজনদের অতীত কর্মকাণ্ড ও চলমান অবস্থান বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, তারাই এই অপরাধে জড়িত। এ ধরনের প্রতারক চক্র সাধারণত নীরবে কাজ করে, কিন্তু বিপদ বুঝলে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। সেসব গতিবিধি থেকেই আমরা তাদের শনাক্ত করেছি।”
এক প্রশ্নে দুদকের এই ডিজি বলেন, “বর্তমানে আমাদের তদন্তে এ ঘটনায় দুদকের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তবে পুলিশ তদন্তে যদি কোনো নাম উঠে আসে, দুদক অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। তদন্ত সম্পূর্ণভাবে পুলিশের হাতে, দুদক এতে হস্তক্ষেপ করে না।”
এর আগে হাসনাত তার ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে দুদকের চা খাওয়ার বিল ১ লাখ টাকা।
“আপনার নামে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না থাকলেও সেটার ক্লিয়ারেন্স নিতে আপনাকে ১ লাখ টাকা দিতে হবে। সম্প্রতি মাহমুদা মিতুর কাছে থেকে এই টাকা চাওয়া হয়েছে দুদকের ডিজি আকতার আর তার ডিডি পরিচয়ে। মাহমুদা মিতুকে বলা হয় আপনি একজন ডাক্তার, আপনার তো টাকা পয়সার অভাব থাকার কথা না, আপনি এক লাখ টাকা দিয়ে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যান।”
এ পোস্টের সঙ্গে তিনি ওই চিকিৎসকের রেকর্ড করা ফোনালাপের তিনটি অডিও ভিডিও আকারে পোস্ট করেন।
পুরনো খবর:
'ফোনে ঘুষ দাবি': ফেইসবুকে হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্ট, প্রতিবাদ দুদকের