Published : 20 May 2026, 02:26 PM
ঢাকা গুলশানে পরিত্যক্ত এক বাড়ি আত্মসাতের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু হবে কি না, তা জানা যাবে আগামী ৬ জুলাই।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।
শুনানি নিয়ে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৬ জুলাই দিন রাখেন বলে আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম জানিয়েছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম ও প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার, রাজউকের সাবেক সদস্য এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক এবং ইফফাত হক ও তার স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল মঈন।
গেল বছরের ১৯ অক্টোবর এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। আসামিদের পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আলহাজ বোরহান উদ্দিন, খাদেমুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী শুনানি করেন।
খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদীর দখলে থাকা গুলশান-২ এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িটি ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ দাবি করে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর সেই আবেদনে দুদক, রাজউক ও গণপূর্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সেখানে বিবাদী করা হয়।
এরপর রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক।
তখন এ মামলা থেকে সালাম মুর্শেদীকে বাদ দেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৩১ ডিসেম্বর তাকে অভিযুক্ত করে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নম্বর, হোল্ডিং নম্বর-২৯, রোড নম্বর-১০৪ প্লটটি পরিত্যক্ত ২৭ কাঠা সম্পত্তির তালিকাভুক্ত। কিন্তু আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে সে তালিকা থেকে প্লট অবমুক্তকরণ না করেই ‘জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ডপত্র’ তৈরি করেন। যা পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করে।
চব্বিশের আন্দোলনে সরকার পতনের পর ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।