সারজিসের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন নিষ্পত্তি করল হাই কোর্ট
সারজিস ফেইসবুকে লিখেছিলেন, “মব তৈরি করে যদি হাই কোর্টের রায় নেওয়া যায় তাহলে এই হাই কোর্টের দরকার কী?”
এক ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলমের বিরুদ্ধে আনা আদালত অবমাননার অভিযোগ নিষ্পত্তি করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।
তবে এই আদেশের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি অভিযোগকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “হাই কোর্ট আবেদনটি ডিসপোসড অফ করেছেন। পূর্ণাঙ্গ আদেশ পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”
সারজিস আলম জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক। ফেইসবুকে হাই কোর্ট নিয়ে তার এক পোস্টকে ‘মর্যাদাহানিকর’ ও ‘অবমাননাকর’ আখ্যা দিয়ে গত ২৪ মে নোটিস পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসিম উদ্দিন।
নোটিসের জবাব না পেয়ে তিনি গত ২৮ মে সারজিস আলমের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন। আদালতে আইনজীবী জসিম নিজেই শুনানি করেন।
গত ৭ জুলাই শুনানি শেষে হাই কোর্ট বিষয়টি আদেশের জন্য রাখে। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার আবেদনটি নিষ্পত্তি করে আদেশ দেয় আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের মেয়র হিসেবে শপথগ্রহণ আটকাতে এক রিট আবেদন খারিজ হওয়ার পর সারজিসের করা মন্তব্যের জেরে নোটিস পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী জসিম।
ফেইসবুকে সারজিস লিখেছিলেন, “মব তৈরি করে যদি হাই কোর্টের রায় নেওয়া যায় তাহলে এই হাই কোর্টের দরকার কী?”
নোটিস পাঠানোর পর আইনজীবী জসিম বলেছিলেন, “সারজিসের পোস্ট আদালত অবমাননাকর। এ ধরনের মন্তব্য আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। এজন্য নোটিসপ্রাপ্তির দুই ঘণ্টার মধ্যে তাকে জনগণের সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।”
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস।
ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর গেল ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে।
এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু আইনি জটিলতার কথা বলে সরকার তাকে আর শপথ পড়ায়নি।
পুরনো খবর
