Published : 19 Jul 2025, 01:55 PM
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর 'জাতীয় সমাবেশ' ঘিরে নেতাকর্মীদের সমাগমে চাপ পড়েছে আশেপাশের সড়কগুলোতে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শনিবার সকাল থেকেই সমাবেশস্থলগামী মিছিলের কারণে, সড়কের বিভিন্নস্থানে যান চলাচল করেছে ধীরগতিতে। যদিও সড়কে গণপরিবহন সকাল থেকে কম চলছে, তবে যা চলছে তাতেই তৈরি হয়েছে যানজট। ঢাকার রাস্তায় বিশেষ করে সমাবেশমুখী সড়কে এদিন ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপট দেখা গেছে।
এছাড়া জামায়াতের সমাবেশ ঘিরে সমাবেশস্থল ও আশেপাশের এলাকায় 'পর্যাপ্ত নিরাপত্তা' ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা জামায়াতের নেতাকর্মীদের বহনকারী বাসগুলো সমাবেশস্থলের অনেক দূরেই রাখা হচ্ছে। সেখান থেকেই তারা মিছিল নিয়ে যাচ্ছেন সোহরাওয়ার্দীতে।
তাদের অনেকে আবার সমাবেশস্থলে যেতে ব্যবহার করছেন ব্যাটরিচালিত রিকশা। ফলে সমাবেশস্থলের চারপাশে অন্যান্য যানবাহন দেখা না গেলেও রিকশার চাপ রয়েছে।
মৎস্যভবন মোড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার চাপ সামলাচ্ছিলেন সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে থাকা মো. ইমরান।
তিনি বলেন, "শাহবাগ থেকে মৎস্যভবন হয়ে প্রেসক্লাব-পল্টন পর্যন্ত নেতাকর্মীদের ভিড়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে অনেকেই রিকশা নিয়ে কাছাকাছি পর্যন্ত আসার চেষ্টা করছেন। যাতে সেসব রিকশাগুলো জটলা সৃষ্টি করতে না পারে আমরা চেষ্টা করছি।"
ট্রাফিক রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "সেন্ট্রালি ট্রাফিক বিভাগ থেকেই বিভাগভিত্তিক বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজকে যেহেতু বন্ধের দিন, আমরা চেষ্টা করতেছি যাতে বাইরের গাড়িগুলো এসে ঢাকার স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ করে না দেয়।"
ঢাকার বাইরে থেকে আসা গাড়িগুলো পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠসহ দূরবর্তী কোন স্থানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপকমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “যাতে গাড়িগুলো দূরে থেকেই লোকজনকে নামিয়ে দেয়, পরে তারা নির্বিঘ্নে হেঁটে চলে আসতে পারেন।"
ট্রাফিক রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার কাজী রোমানা নাসরিন বলেন, "সকালের ধাক্কাটা আমরা কিছুটা সামলিয়েছি। নেতা কর্মীদের নিয়ে আসা বড় বাসগুলোকে আমরা ভিতরে প্রবেশ করতে দেইনি। আর তারাও বড় বাস নিয়ে আসেনি, বড় বাস দূরে থামিয়ে নেতাকর্মীরা হেঁটে সমাবেশ স্থলে এসেছেন। আর কিছু জায়গায় আমরা ডাইভারশন দিয়েছিলাম।
"সড়ক সচল রাখতে আমরা চেষ্টা করছি। এত বড় জনসমাবেশ যেহেতু সড়কে এর কিছুটা তো প্রভাব পড়বেই।"
এদিন তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা এলাকায় সমাবেশে আসা মানুষের চাপে দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। আজমেরী পরিবহনের সহকারী শাহ পরাণ বলেন, "বিজয়সরনীর ফ্লাইওভারের পর থেইকাই যানজট। সামনে রাস্তা খালিই দেখা যাইতাছে, কিন্তু মিছিলের কারণে গাড়ি জমতে জমতে যানজট তৈরি হইছে।"
সোহরাওয়ার্দীর আশেপাশে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বাংলামটর, মগবাজার, পল্টন, চাঁনখারপুল এলাকার সড়কেও প্রায় এমন জটলার খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "আজকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সড়কে ঢাকার অভ্যন্তরীন যানবাহনের চাপ কিছুটা কম। কিন্তু ঢাকার বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক বাস ঢুকেছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেসব বাস থেকে নেমে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাচ্ছেন। মিছিলের কারণেই বিভিন্ন এলাকায় জটলা তৈরি হচ্ছে।"
ঢাকার বাইরে থেকে আসা বাসগুলো বিভিন্ন প্রশস্ত সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করা হয়েছে। এসব পার্কিংয়ের কারণে সড়কে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর ফেইসবুক পেইজ থেকে 'ট্র্যাফিক অ্যালার্ট' সম্পর্কিত একটি পোস্টে বলা হয়েছে, "সু-প্রিয় নগরবাসী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের কারণে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।"
এর সঙ্গে গুগল ম্যাপের যানজট চিহ্নিত একটি ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের সমাবেশ ঘিরে ‘লাখো মানুষ’ ঢাকায় প্রবেশ করার কারণে ‘কিছু যানজট’ ও ‘সাময়িক জনদুর্ভোগ’ হওয়ার সম্ভাবনায় আগেরদিনই ঢাকাবাসী এবং দেশবাসীর কাছে আগাম ক্ষমা চেয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার তিনি বলেছেন, “এই লাখ লাখ মানুষ প্রবেশ করার কারণে কিছু যানজট হবে, সাময়িক কিছু জনদুর্ভোগ হতে পারে। দেশবাসীর সড়কে, রেলপথে যেসব যানজট এবং কিছুটা কষ্ট হবে। সম্মানিত আমীরে জামায়াতের পক্ষ থেকে রাজধানীবাসী এবং দেশবাসীর কাছে আমি অগ্রীম ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
এদিন সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া সমাবেশ স্থল ও আশপাশ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য পোশাকে এবং সাদা পোশাকে মোতায়েন করা হয়েছে ।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, "জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশকে কেন্দ্র আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য সমাবেশ স্থল ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।"
অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ৭ দফা দাবিতে এই সমাবেশ করছে জামায়াত।
এতোদিন জামায়াতে ইসলামী জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনের সড়ক, পুরনা পল্টনের মোড়ে সভা-সমাবেশ করলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবারই প্রথম সমাবেশ।
সমাবেশস্থলে কুমিল্লার লাকসাম থেকে এসেছেন রাজমিস্ত্রী মো. মঈন। তার এলাকা থেকে দুটি বাসে করে শতাধিক লোক এসেছেন।
তিনি বলেন, "খুব ভালো লাগতেছে, আশা করছি এইবার ভালো কিছু হবে।"
মৎস্যভবন মোড়ে কথা হয় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থেকে আসা ব্যাসায়ী মো. রাশেদের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, তারা ১০ টি গাড়িতে করে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন তারা।
জামালপুর থেকে ১১টা গাড়িতে করে লোকজন নিয়ে এসেছেন দুলন মিয়া।
তিনি বললেন, রাত ১১টায় রওনা দিয়ে সকালে মহাখালী এসে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলের কাছে এসেছেন।
তিনি বলেন, "এতো মানুষ ভিতরেই ঢুকতে পারতেছি না, বাইরে বসে আছি।"
দেশের দক্ষিণের জেলা থেকে সড়ক পথে ঢাকার প্রবেশ পথ যাত্রাবাড়ী-চিটাগং সড়কে বেলা ১০টা থেকেই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ শুরু হয়। বাস, মাইক্রোবাসের চাপে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারে উঠার পথে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
চাঁদপুর হাজীগঞ্জ থেকে জামাতের কর্মীরা ৬০টি বাস ও মাইক্রোবাসযোগে ঢাকায় আসার কথা জানিয়েছেন দলটির সদর থানার একটি ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "সকাল ৭টায় সদর থেকে একটা একটা করে গাড়ি ছাড়ছি। যেইটা আগে ভরছে সেইটাই ছাইড়া দিছি। দেরি না করতে নাস্তা আমরা গাড়িতে করেছি।"
বেলা ১১টার সময়ে তাদের বহন করা ঢাকা চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী সুরমা সুপার বাসটি যাত্রাবাড়ী কাজলায় এসে পৌঁছায়।
বাসটির চালক আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, ঢাকায় ঢোকার আগে চিটাগং রোডের বড়পা নামের স্থানে পৌঁছালে যানজট পান তিনি, এরপর প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগে যায় এক ঘণ্টা।
যাত্রাবাড়ী থেকে শনির আখাড়া, রায়েরবাগ ছাড়িয়ে যাজটের প্রভাব দেখা গেছে চিটাগং রোড পর্যন্ত। তবে
সড়কের বিপরীতে চলাচলকারী লেন প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে।