Published : 11 Feb 2026, 12:55 AM
তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার ‘প্রহসনের’ কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেছে তথ্য অধিকার ফোরাম।
একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগ না দেওয়াকে ‘নিন্দনীয়’ হিসেবে তুলে ধরেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনামের পাঠানো বিবৃতিতে এসব দাবি করা হয়।
তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সংশোধন করে গত সোমবার অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
ফোরামের দাবি, এ সংশোধনের মাধ্যমে আইনের মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটেনি। ফোরামের তরফে বেশ কিছু সংশোধন প্রস্তাব করা হলেও তা মানা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ধারাবাহিক তাগিদ থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে গুরুতর অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য অধিকার ফোরাম বলছে, তারা তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের জন্য ৩৭টি প্রস্তাব তৈরি করে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠায়। পরে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে আইন পর্যালোচনা ও সংশোধন বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে পুনরায় মতামত দেওয়া হয়।
এছাড়া আইন সংশোধনের অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর গত ২৫ জানুয়ারি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হলেও তা রাখা হয়নি।
সংগঠনটি বলছে, তথ্য অধিকার আইনের অন্তর্নিহিত চেতনার পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ন্যূনতম কিছু সংশোধন প্রয়োজন, যা অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এসবের মধ্যে রয়েছে তথ্যে নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা, কর্তৃপক্ষের আওতা বাড়িয়ে সরকারি চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের পদমর্যাদা, বেতন ও সুবিধা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
বিবৃতিতে বলা হয়, জরিমানার ক্ষেত্রে আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও সংশোধনীতে প্রতিফলিত হয়নি।
বিবৃতিতে সহমত প্রকাশ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, নিজেরা করির কোঅর্ডিনেটর খুশী কবির, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ নাগরিক সমাজের আরও কয়েকজন প্রতিনিধি।