১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো: হত্যাকারীদের শাস্তি চাইলেন বায়জিদের স্ত্রী

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দি দেন রিনা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Sep 2025, 10:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

শেখ হাসিনার পতনের দিন ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় থানার পাশে যে ছয়জনের লাশ পোড়ানো হয়েছে তাদের মধ্যে বায়জিদ বোস্তামির স্ত্রী রিনা আক্তার ট্রাইব্যুনালে দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়ে তিনি বলেছেন, “আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমাকে যারা বিধবা করেছে, আমার শিশুপুত্রকে অল্প বয়সে যারা এতিম করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি চাই।”

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দি দেন রিনা। 

ট্রাইবুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

গত বছরের ৫ অগাস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

সেদিন আশুলিয়ায় পুলিশ পেট্রোলের আগুনে ছয় তরুণের লাশ পোড়ায়। ওই ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।

নিহতদের মধ্যে বায়জিদের (২১) বাড়ি নওগাঁর ধামুইরহাট উপজেলার কৈগ্রামে। থাকতেন ঢাকার আশুলিয়া এলাকার কাঠগড়া নয়াপাড়ায়। পড়াশোনার পাশাপাশি বেনেসাঁ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। রাফি আব্দুল্লাহ নামে বায়জিদের দেড় বছর বযসী এক ছেলে আছে, তার মৃত্যুর সময় যার বয়স ছিল ৬ মাস। 

জবানবন্দিতে রিনা আক্তার বলেন, তার স্বামী গত বছরের ৪ অগাস্ট গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হন। দেশের পরিস্থিতি ভালো না থাকায় সেদিন যেতে পারেননি। কারখানার পাশে খালার বাসায় ছিলেন বলে তাকে বলেছেন।

সে দিন রাতে তিন কাঠগড়া নয়াপাড়া ডেকো ফ্যাক্টরির পাশে তার বোনের বাসায় ছিলেন তুলে ধরে রিনা আক্তার।

তিনি বলেন, “পরদিন, ৫ অগাস্ট, সকাল ১০টার সময় আমি তাকে (বায়জিদ) ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাই। চার্জার না নিয়ে যাওয়ায় মোবাইল বন্ধ হয়ে গিয়েছে মনে করি।” 

তার পরের দিন আনুমানিক বিকাল ৪টা, সাড়ে ৪টার দিকে অপরিচিত একজনের ফোন পয়ে তিনি বোন, ভগ্নিপতি, ভাগিনাসহ বোনের বাসার পাশের একজনকে নিয়ে আশুলিয়া থানার সামনে মসজিদের কাছে যান। সেখানে তার স্বামীর কলেজের পরিচয়পত্র দেখে লাশ শনাক্ত করেন। 

বিনা বলেন, সেদিন রাত ৮টার দিকে বায়জিদের লাশ নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলা ধামুইরহাট থানার কৈগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ভোর ৪টা সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে পৌঁছান। জানাজা শেষে সেখানে বায়জিদের লাশ দাফন করা হয়। 

তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন পর পত্রপত্রিকা, ফেইসবুক, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে লাশ ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে পারেন। 

গত ২ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়।

গত ২১ অগাস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় এই ট্রাইব্যুনাল। সোমবার প্রথম দিন সাক্ষ্য দিয়েছেন আস সাবুরের বড় ভাই রিজওয়ানুল ইসলাম এবং সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা খলিলুর রহমান।  

এ মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামি হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল।

পলাতক সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজনের পক্ষে রাষ্ট্রের খরচে দুজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।