১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সুপ্রিম কোর্টে আদালতকক্ষে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ সাংবাদিকদের

“আমরা বলতে চাই, আপনি যদি প্রবেশাধিকার বন্ধও করে দেন, আমাদের কলম চলবে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 May 2026, 05:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:32 PM

সুপ্রিম কোর্টের আদালতকক্ষে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেছেন সংবাদমাধ্যম কর্মীরা।

এই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে ত্যাহার করা না হলে সর্বোচ্চ আদালতের সব ধরনের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

রোববার দুপুর পৌনে ১টা থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালন করে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম (এসআরএফ)। 

গত ৭ জানুয়ারি থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাস ও হাই কোর্ট বিভাগের বিভিন্ন বেঞ্চে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। 

যুগের পর যুগ ধরে গণমাধ্যমকর্মীরা আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে অবাধ প্রবেশের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ করে আসছিলেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এজলাস কক্ষগুলোতে সাংবাদিক প্রবেশে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম বলেন, “আজকে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এই দিনেও সারা বিশ্বে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বিভিন্ন জায়গায় বাধাগ্রস্ত ও নির্যাতন করা হচ্ছে। আদালত কক্ষ হচ্ছে একটি পাবলিক প্লেস, যেখানে বিচার কার্যক্রম সর্বসাধারণের পর্যবেক্ষণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। 

“তাই আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া কেবল পেশাগত প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং এটি সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

অবাধ তথ্যপ্রবাহ এবং স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আদালতসহ সকল পাবলিক প্লেসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বজায় রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে এমন কর্মসূচির বাস্তবতার কথা তুলে ধরে এসআরএফ সভাপতি মাস-উদ-দুর রহমান রানা বলেন, “আমরা এমন একটা বাস্তবতায় এখানে প্রতিবাদ করছি যখন সারা বিশ্বে মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে। অথচ আমাদের দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্র সুপ্রিম কোর্টে আমরা প্রবেশ করতে পারছি না। সর্বোচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি রীতি বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ করে দিয়েছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের ও কষ্টের।”

দুর্নীতির খবর প্রকাশ করাই অপরাধ কী না, এমন প্রশ্ন তুলে এসআরএফ সভাপতি বলেন, “আমরা যারা এখানে কাজ করি, এটাই কি আমাদের অপরাধ যে আমরা সুপ্রিম কোর্টের দুর্নীতি, অনিয়ম এগুলো নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করি? যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমরা বলতে চাই, আপনি যদি প্রবেশাধিকার বন্ধও করে দেন, আমাদের কলম চলবে। আমরা আমাদের সংবাদ প্রকাশ করতেই থাকব এবং সকলকে সাথে নিয়ে আমরা সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশাধিকার ফেরত চাই।”

দাবি না মানলে সংবাদ বয়কটের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে রানা বলেন, “সাংবাদিকরা ব্যক্তিগত কোনো লাভের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যান না। সেক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি যদি আমাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করেন, তাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর হতে বাধ্য হব। আমরা প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের সকল সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করে দেব।”

প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “যদি মাননীয় প্রধান বিচারপতি মনে করেন তিনি প্রশ্নহীন একটি সুপ্রিম কোর্ট রাখতে চান, তাহলে তিনি প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিন। আমরা আবারো একতাবদ্ধ হয়ে বলবো, আপনি অবিলম্বে সর্বোচ্চ আদালতে সাংবাদিকে প্রবেশাধিকার খুলে দিন। অন্যথায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সুপ্রিম কোর্ট দায়ী থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে আমাদের আকুল আবেদন, এটি উনি যেন বিবেচনা করেন। না হলে এতে দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে, বিচারপ্রার্থীদের ক্ষতি হবে, দেশের মুক্ত গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে। ক্ষতি হবে একটি প্রতিষ্ঠানের, যে প্রতিষ্ঠানটি একসময় দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। ধীরে ধীরে তারা প্রশ্নবিদ্ধ, প্রশ্নহীন হয়ে যাবে।”

মানববন্ধনে এসআরএফ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি বক্তব্য দেন চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি ও নির্বাহী সদস্য মাজহারুল হক মান্না। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসআরএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম ফকির, দপ্তর সম্পাদক মাঈনুল আহসান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দিদারুল আলম, সৈয়দা সাবরিনা মজুমদারসহ সুপ্রিম কোর্ট বিটে কর্মরত শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী।