২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

কমলাপুর স্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

গ্রেপ্তার অন্যজন স্টেশনেরই এক ইলেকট্রিশিয়ান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 05:37 PM

Updated : 21 Sep 2026, 05:37 PM

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গত শনিবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর তদন্তে নেমে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোববার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

গ্রেপ্তাররা হলেন- কমলাপুর রেলস্টেশনের ইলেকট্রিশিয়ান সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সানমুন।

রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তার সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে রেলওয়ের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত। তবে গত তিন মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে সানমুন শাহজাহানপুর থানা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী।

উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, “গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।

“ঘটনার পর রেলওয়ে কর্মকর্তা ও রেলওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে পুলিশ। যারা ঘটনায় জড়িত ছিল, তারা গা ঢাকা দিয়েছিল। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে ২ জনকে গ্রেপ্তার করি।”

পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান ও সানমুন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা ‘লকডাউন’ সফল করা, নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়া ও জনমনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

উপকমিশনার হারুন বলেন, “এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

“বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট এবং এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্টের ৩ ও ৪ ধারায় করা হয়েছে।”

কমলাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও ট্রেনে আগুনের ঘটনায় পুলিশের আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপকমিশনার বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিয়মিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

“আমি বলতে চাই না এখানে আমাদের গোয়েন্দা ব্যর্থতা আছে। গোয়েন্দা ব্যর্থতা থাকলে তো আরও অনেক ঘটনা ঘটত।”