Published : 02 Dec 2024, 06:04 PM
গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে ডিভিশন না পাওয়ার কথা আদালতকে বলেছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম ইমরান আহম্মেদের আদালতে তিনি বলেছেন, তাকে পাঁচ হাত লম্বা চার হাত চওড়া সেলে রাখা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাকার শাহবাগ এলাকায় রিয়াজুল হত্যা মামলায় এদিন পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই একরামুল হক। শুনানিকালে পলক কিছু বলতে চান বলে আদালতকে জানান।
আদালত অনুমতি দিলে পলক বলেন, “কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে আমি ডিভিশন পাচ্ছি না। পাঁচ হাত লম্বা চার হাত চওড়া সেলে আমাকে রাখা হয়েছে। পরিবারের সাথে সাক্ষাৎসহ ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ কারাগারে বেশিরভাগ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত। তাদের মধ্যে আমাকে রাখা হয়েছে।”
এ সময় বিচারক লিখিত আবেদন করতে বলেন পলককে। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরে পলকের আইনজীবী ফারজানা ইসলাম রাখি সাংবাদিকদের বলেন, “জুনাইদ আহমেদ পলককে ডিভিশনে না রেখে নরমাল কয়েদিদের সঙ্গে সেলে রাখা হয়েছে, যে সেলে সব ফাঁসির আসামি রয়েছে। সেখানে দুই হাজার আসামির মধ্যে ১৫০০ জন আসামি রয়েছে- যারা ফাঁসির আসামি; এমন ধরনের একটা জায়গায় তাকে রাখা হয়েছে।
“গত ২৭ অক্টোবর তিনি ডিভিশন প্রাপ্ত হন। ডিসির কাছ থেকেও অনুমোদন পান। তিনি ডিভিশনেও ছিলেন। পরবর্তীতে কাশিমপুর নিয়ে যাওয়ার পর হাই সিকিউরিটির ৪ নম্বর সেলে তাকে রাখা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের ডিভিশন নাই।”
আইনজীবী রাখি বলেন, “শারীরিকভাবে তিনি অনেক অসুস্থ। ডিভিশনাল সেলে সুযোগ-সুবিধা না থাকার ফলে তিনি শারীরিক, মানসিকভাবে ও অনিরাপত্তার মাঝে জীবনযাপন করছেন।
“বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচরে আনা হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে লিখিত আবেদন দিতে বলেছেন।”
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে গত ৪ অগাস্ট তোপখানা রোডে রিয়াজুলকে গুলি করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে সন্ধ্যায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর শাহবাগ থানায় মামলা করেন রিয়াজুলের পূর্বপরিচিত বিল্লাল হোসেন।
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৫ অগাস্ট ঢাকার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে পলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ অগাস্ট দেশত্যাগের চেষ্টার সময় পলককে রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দরে পলককে আটকে দেওয়ার খবর আসে সংবাদমাধ্যমে। সেদিন দুপুরের পর বিমানবন্দরে কর্মরত কয়েকটি সরকারি সংস্থার কর্মীরা তাকে চিনতে পেরে আটক করেন।
পরে ১৫ অগাস্ট ঢাকার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে পলককে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর কয়েক দফা তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।