Published : 27 Jun 2025, 11:57 PM
রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তার কর্মীদের দাপ্তরিক কাজে যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বৃহস্পতিবার বিমানের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ (আইটি) থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারির পর শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা।
ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের করপোরেট নেটওয়ার্কের ‘সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার স্বার্থে’ দাপ্তরিক কাজে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
বিকল্প হিসেবে, করপোরেট যোগাযোগের জন্য ‘মাইক্রোসফট টিমস’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, “বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠানে এখন দাপ্তরিক কাজে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার নিষিদ্ধ।”
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিমানের জনসংযোগ শাখার মহাব্যস্থাপক এ বি এম রওশন কবীর শুক্রবার বিকেলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আরও কয়েকমাস আগেই থেকেই আমাদের অফিসের কম্পিউটারগুলোতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন করে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে গতকাল। বিকল্প হিসেবে মাইক্রোসফট টিমস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
কী কারণে এই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মূলত সাইবার সিকিউরিটি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলতে পারেন।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রবাসী সাংবাদিক জুলাকারনাইন সায়ের ফেইসবুকে তার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন।
তিনি লিখেন, “নিজেদের হ্যাকার গ্রুপ অ্যানোনিমাস গ্লোবাল সাউথ দাবি করে গতসপ্তাহে আমার কাছে এই ভিডিওটি পাঠানো হয়। এখানে উত্থাপিত বিভিন্ন তথ্য ও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতে আমি তাদের কিছু প্রমাণ দিতে বলি। তারা আজ আমাকে উল্লেখযোগ্য কিছু স্পর্শকাতর তথ্য প্রমাণ হিসেবে পাঠায়, যার সঠিকতা আমি যাচাই করেছি। ভিডিওতে প্রদত্ত সকল মতামত অ্যানোনিমাস গ্লোবাল সাউথের, জনগুরুত্ব বিবেচনায় কোন রকম পরিমার্জনা ছাড়াই বার্তাটি প্রকাশ করা হলো।”
ওই ভিডিওতে মুখোশ পরা একজনকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ককপিটে পাইলট কর্তৃক নারী কর্মীদের যৌন হয়রানি, কর্মকর্তাদের আর্থিক দুর্নীতিসহ, চোরচালানে জড়িত থাকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অভিযোগ করেন।
এসব ঘটনার প্রমাণ হিসেবে কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে থাকার দাবি করে ওই ব্যক্তি সতর্ক করে বলেন, “এসব ঘটনায় জড়িতরা কোনোভাবেই পার পাবেন না। তাদের পালানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।”
এরপর আরেক পোস্টে সায়ের এসব অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। ওই পোস্টে তিনি বলেন, “বিমানের বিষয়ে সরকারের কোনো সংস্থাই তদন্ত করে বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেনি। কিন্তু সকল অপকর্মই একটা সময়ে উন্মোচিত হয়ে যায়। সম্ভবত তেমনটাই একসাথে ঘটতে চলেছে।”
ওই ভিডিও বা অভিযোগের সত্যাসত্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। এসব বিষয়ে জানতে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানকে ফোন করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
একই দিনে ভিন্ন আরেক পোস্টে হোয়াটসআপ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ নিয়ে সায়ের লেখেন, “বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কি 'অ্যানোনিমাস গ্লোবাল সাউথ' এর আতংকে সকল কর্মীদের অফিসিয়াল কাজে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো?”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রওশন কবীর বলেন, “ওই ভিডিও বা পোস্টের সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞার কোনো সম্পর্ক নেই। নিরাপত্তার স্বার্থে আগে থেকেই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।”