একপক্ষ বিক্ষুব্ধ হয়ে হলরুম ত্যাগ করেন; সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম বারবার চেষ্টা করেও তাদের শান্ত করতে পারছিলেন না।
Published : 14 Nov 2024, 06:30 PM
সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিতে সড়ক অবরোধের পরদিন জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে আহতরা সচিবালয়ে আলোচনার জন্য গেলেও সেখানে নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ২টার কিছু সময় পর সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল ও চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আহতরা। এর বাইরে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহতরাও চলে আসায় তাতে বাদ সাধেন আগের রাতের বিক্ষুব্ধরা।
বিকাল ৪টার দিকে দেখা যায়, একপক্ষ বিক্ষুব্ধ হয়ে হলরুম ত্যাগ করেন। সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম বারবার চেষ্টা করেও তাদের শান্ত করতে পারছিলেন না।
হাসনাত তখন বলেন, “আহতদের নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি আমরা সন্দেহের চোখে দেখি। আপনারা আলোচনা করে দাবিগুলো ঠিক করেন। আমরা আপনাদের চাওয়াগুলো পূরণ করি কি না দেখেন। সব আহতই আমাদের চোখে আহত। এখানে ভেদাভেদ করার সুযোগ নেই।”
আলোচনার কক্ষ ছেড়ে বারান্দায় দাঁড়ানো আহত এক ব্যক্তি বলেন, "এখানে এমন লোক দেখতে পাচ্ছি যারা গতকালের আন্দোলনে ছিল না। এখন তারা নিজেদের মধ্যে পাঁচজন প্রতিনিধি ঠিক করে আলোচনা করতে চাচ্ছে।”
বুধবার দুপুর থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের সামনে শ্যামলী-আগারগাঁও সড়ক অবরোধ করে রাখে কোটা সংস্কার ও আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় আন্দোলনে আহতরা।
তারা সমন্বয়ক থেকে অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়া নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ও সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় উপস্থিত হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ আন্দোলনকারীদের বলেন, উপদেষ্টা আসিফ ও নাহিদ এই মুহূর্তে ঢাকায় নেই। সবার সঙ্গে বসতে হলে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার আগে সম্ভব নয়।
হাসনাতের আহ্বানে সড়ক ছেড়ে না দিয়ে অবস্থান ধরে রাখেন আন্দোলনকারীরা। রাত ৩টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে যান উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও যুব উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে তারা বলেন, আন্দোলনকারী প্রতিনিধির সঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বৈঠক করা হবে।
বৈঠক ও দাবি পূরণের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন পুলিশ জানায়। এরপর দুপুরে আলোচনার জন্য সচিবালয়ে যান তারা। কিন্তু সেসময় অন্যান্য হাসপাতাল থেকে গণআন্দোলনে আহত আরও অনেকে চলে আসলে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি হয়।