Published : 27 Aug 2026, 09:36 PM
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাউদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বিশেষ সভার ফাঁকে বৃহস্পতিবার তাদের এই বৈঠক হওয়ার তথ্য দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ধরে বলা হয়, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটি। বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক বিষয়াবলি প্রতিমন্ত্রীর ‘ইতিবাচক আলোচনা’ হওয়ার কথাও বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনার মধ্যে জেদ্দা সফরে গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
গত ৭ অগাস্ট মক্কায় এ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে ওই তিন দেশ। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।
চুক্তির একটি বিশেষ দিক হল, তিন দেশের যে কোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও সম্মিলিত প্রতিরক্ষার আওতায় আসার কথা রয়েছে।
চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে করা হয়নি বলে জানিয়েছিল তুরস্ক। পাকিস্তানও চুক্তিটিকে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এর মধ্যে ২৪ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন পররাষ্ট্র বিষযক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দাযিত্ব আসা হুমায়ুন তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বকে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে, ওই জোটের সঙ্গে থাকার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে, তাদের সঙ্গে থাকার জন্য।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা ঠিক হবে কি-না এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা দেখা যাচ্ছে।
এরপর সংসদে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে।
তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব না আসার কথাও বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে সৌদি কোম্পানিগুলোর আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সৌদি আরবের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিক থেকে আসার কথা বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বৈঠকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে লেখা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি চিঠি তুলে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে উভয়পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক গতিতে সন্তোষ প্রকাশ এবং অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন বলেন, “বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কয়েকটি সফর হল, যার মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বিত সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার নতুন সুযোগ।”
ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সম্ভাব্য সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করে হুমায়ুন কবির সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে সৌদি আরবের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আব্দুলকরিম আল-খুরাইজি, ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।