Published : 18 Aug 2024, 11:58 PM
সরকারি চাকরিতে কোটা ও পরে সরকার পতন আন্দোলনে প্রাণ হারানো এক কিশোরের স্মরণে ঢাকার একটি কলেজে শ্রদ্ধা জানানোর অনন্য এক ঘটনা দেখা গেছ।
রোববার বিএএফ শাহীন কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে এই ঘটনাটি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে, সেটি দেখে চোখ ভিজে গেছে অনেকের।
ছাত্র আন্দোলনের কারণে গত ১৮ জুলাইয়ের পর এই প্রথম ক্লাসে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। তবে একাদশ শ্রেণির শাফিক উদ্দিন আহম্মেদ আহনাফ কেবল স্মৃতি হয়ে রইল।
যে আসনে বসে আহনাফ ক্লাস করত, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেই আসনটি কেবল ফাঁকা রাখা হয়নি, তার টেবিলটিতে রাখা ছিল একটি ফুলের তোড়া। আর একটি সাদা কাগজে বড় অক্ষরে লেখা ছিল তার নাম।
২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল আহনাফের।
গত ২ জুলাই কলেজে একাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়। তিনটি পরীক্ষা হওয়ার পর আন্দোলন ও বিক্ষোভ-সংঘাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠলে পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়।
সেই পরীক্ষা শুরুর দিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার স্মরণে কিছু একটা করার তাগিদ বোধ করে। পরে আলোচনার ভিত্তিতে এভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই ছবিটি হাজার হাজার মানুষ ফেইসবুজে শেয়ার করে এই কিশোরের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের পক্ষে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন আহনাফ। আন্দোলনে অংশ নিয়ে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটে আহত হয়ে একবার বাসায়ও ফিরেছিলেন।
সহিংসতা, সংঘাতের পথ পেরিয়ে আন্দোলনটি সরকার পতনের এক দফায় গড়ানোর পর গত ৪ অগাস্ট অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন ১৭ বছর বয়সী আহনাফ।
গুলিটি তার বুকের ডান দিক দিয়ে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের দিন তুমুল আন্দোলনের মুখে সরকারের পতন ঘটে, দেশ ছেড়ে চলে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই বিষয়টি আর জানা হয়নি এই কিশোরের।
৮ অগাস্ট আহনাফের স্মরণে বিএএফ শাহীন কলেজ প্রাঙ্গণে এক শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। সেখানেও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আহনাফের স্মরণে মিরপুরের পাইকপাড়ায় মডেল একাডেমি স্কুল মাঠটিকে ‘শহীদ আহনাফ খেলার মাঠ’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন তিনি।