১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সবুজবাগে তরুণীর খণ্ডিত লাশ: বান্ধবীর স্বামী ও সহযোগী চার দিনের রিমান্ডে

সবুজবাগ এলাকা থেকে বুধবার রাতে রাব্বী ও শাওনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2026, 04:43 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

রাজধানীর সবুজবাগে ছুরাইয়া আক্তার ফালানীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের মামলায় দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। 

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মমিনুল ইসলাম রিমান্ডের এ তথ্য জানিয়েছে। এই আসামিরা হলেন- ছুরাইয়া আক্তার ফালানীর বান্ধবী নুসরাত জাহান সাহিদার স্বামী মনজুরুল ইসলাম রাব্বী এবং সহযোগী শাওন (সাহিদার সাথে খুনে অংশ নেওয়া) ।

সবুজবাগ এলাকা থেকে বুধবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী খলিলুর রহমান (আসাদ) রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন।

শুনানি নিয়ে আদালত আসামিদের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

গত ৬ অগাস্ট সবুজবাগের মাদারটেক বাগানবাড়ির গরুর খামার লাগোয়া সেতুর নিচ থেকে একটি খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ছবি দেখে দেহাংশটি ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীর বলে শনাক্ত করেন তার মা-বাবা। ১৯ বছর বয়সি ফালানী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে।

এ ঘটনায় ওইদিনই অজ্ঞাতদের আসামি করে সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই রাশেদুল হাসান।

ঘটনাটি তদন্তে নেমে পুলিশ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গত ২১ অগাস্ট ফালানীর বান্ধবী সাহিদা, ফারুক, সুজন, মামুন, বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম প্রত্যেক আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে গত ৫ অগাস্ট খিলগাঁও থানা পুলিশ রকিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে রকি কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। এর মধ্যেই ফালানী হত্যার সঙ্গে রকির সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে রোববার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আসামির উপস্থিতিতে গত সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে, আরেক আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী ৬ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এদের মধ্যে নুসরাত জাহান সাহিদা (১৯) ও কবির হোসেন (১৮) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), সুজন (২০), মামুন (২০) , রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পিকে (১৯) ও রকি (১৯) কে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ। একই আদালত থেকে অপর চার আসামিকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ আসে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফালানী হত্যার রহস্য উঠে আছে।

ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে এ খুনের ঘটনা। সাহিদার স্বামী রাব্বি সঙ্গে ফালানী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সাহিদা জেনে যায়। ঘটনার দিন রাব্বির সঙ্গে ফালানিকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় তাদের দেখে ফেলে সাহিদা। সঙ্গে সঙ্গে সাহিদা ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করে ফালানীকে। পরে লাশ গুমের জন্য সাহিদার সঙ্গী শাওন নামে আরেকজন নিহতের মাথা বিচ্ছিন্ন করে।"

আরও পড়ুন: 

সবুজবাগে তরুণীর খণ্ডিত লাশ: 'হত্যার স্বীকারোক্তিবান্ধবী ও তার

সবুজবাগে খণ্ডিত লাশআরেক আসামির চার দিনের রিমান্ড