Published : 07 Oct 2025, 07:07 PM
হালনাগাদে দেশে নারী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘জেন্ডার ফেন্ডলি’ করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার বিকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নারী অধিকারকর্মীদের সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন যেমন, এর সঙ্গে আমি যোগ করবো একটা ‘জেন্ডার ফ্রেন্ডলি ইলেকশন’। আমার পক্ষ থেকে এটা যোগ করলাম।”
দেশের জনসংখ্যা বিবেচনায় নারী পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান, এ বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আপনারা জেনে অবাক হবেন, পুরুষ ভোটারের থেকে ৩০ লাখের উপরে নারী ভোটার কম ছিল। এটা স্বাভাবিক না।
“আমরা বুঝেছি, নারী ভোটারদের মধ্যে কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়তো প্রত্যন্ত এলাকায় হয়েছে। মানুষ নির্বাচন থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল, নির্বাচন ব্যবস্থার উপর আস্থাহীনতার কারণেও এটা হতে পারে।
“আমরা এবার যেটা করেছি, নারী ভোটারের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়েছে, ৩০ লাখের পার্থক্যটা ১৮ লাখে চলে এসেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে যেয়ে।”
ফেব্রুয়ারি প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসাবে তফসিল হতে পারে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে। তার আগে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ‘সংলাপ পর্ব’ শুরু করে ইসি।
এ ধারাবাহিকতায় পূজার ছুটির পর বসল সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। আর মঙ্গলবার নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নারী সংগঠনের নেত্রীদের সঙ্গে বসল ইসি।
এদিন সংলাপের শুরুতে আগের সরকারের সময় নারী ভোটাররা নির্বাচনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “এবার আমরা বেশি সংখ্যক নারীকে ভোটার নিবন্ধনের আওতায় আনতে পেরেছি।
“আমরা ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্রগুলোতে দেখেছি লম্বা লাইন, মহিলারা রাত ৯টা, ১০টা, ১১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে নিবন্ধন করেছেন৷ এটা একটা বিশাল অর্জন।”
এ প্রক্রিয়ায় নারীদের মধ্যে নির্বাচন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদে সাড়ে ২১ লাখ মৃতের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে।
নারীদের ভোট কেন্দ্রে নারী পুলিশ সদস্য মোতায়নের দাবি উঠেছে তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, “যদি সম্ভব হয় এই দাবি আমরা বিবেচনা করব৷। অনেকে আবার নারী পুরুষ আলাদা দেখার বিষয়ে সমালোচনাও করেছেন।”
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের সঞ্চালনায় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ, বেগম তাহমিদা আহমদ, আব্দুর রহমানেল মাছউদ, মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও নারী পক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন পারভীন হক, মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, ‘নিজেরা করি’ এর সমন্বয়কারী খুশি কবির, নারী পক্ষের সভানেত্রী গীতা দাস, নারীর প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমি, ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের প্রতিনিধি মাহরুক মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস-বি স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব, উইমেন উইথ ডিসঅ্যাবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি, ইন্টার নিউজ বাংলাদেশের শামীম আরা শিউলি।
আরও পড়ুন:
নিয়ন্ত্রণ দ্রুত ইসির হাতে নেওয়ার সুপারিশ সাবেকদের
সাবেক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা শুনে জালিয়াতির পথ বন্ধ করতে চান সিইসি