১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিএসসিসির বিজ্ঞাপন: ২৫ কোটি টাকা ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে মামলা করবে দুদক

দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Sep 2025, 08:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:18 PM

‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-ডিএসসিসির বিজ্ঞাপন বরাদ্দের ২৫ কোটি টাকার বেশি ‘রাজস্ব ফাঁকি ও আত্মসাতের’ অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার মামলা অনুমোদনের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংস্থার উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।

যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে তারা হলেন—ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) খান মোহাম্মদ বিলাল, সাবেক উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (বাজার) এবং চাকরিচ্যুত মো. ইফসুফ আলী সরদার, টিসিএল অপটোইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতার হামিদ খান, বেস্টওয়ানের স্বত্বাধিকারী মোসা. মমতাজ বেগম, বৈশাখী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. গাফ্ফার ইলাহী ও জি-টেকের স্বত্বাধিকারী সুলতানা দিল আফরোজা।

অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলছে, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জমি বা ভবন এবং কর্পোরেশন এলাকার সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জমি বা ভবনে বিজ্ঞাপন ফলক (এলইডি সাইন) স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুট ২০ হাজার টাকা হারে বরাদ্দ নির্ধারিত। কিন্তু ‘কৌশলে’ তা কমিয়ে মাত্র ৮০০ টাকা হারে বরাদ্দ দেওয়া হয়। 

এভাবে সরকারের প্রায় ২৫ কোটি ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা ‘রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তা আত্মসাৎ’ করা হয়েছে, বলেছে দুদক। 

এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, বলেন দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম।

এছাড়া বিজ্ঞাপক ফলক স্থাপনে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ সিটির তিন কর্মকর্তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

যাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়া হবে, তারা হলেন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উপ-কর কর্মকর্তা দেওয়ান আলীম আল রাজী, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান এবং রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন।

গেল ৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সিটির কার্যালয় নগর ভবনে অভিযান পরিচালনা করে দুদক।

সে অভিযানে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে যখন ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়রের দায়িত্ব বুঝে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন চলছিল, তখন নগর ভবন বন্ধ থাকলেও প্রায় সোয়া কোটি টাকার জ্বালানি খরচের বিল তোলার অভিযোগের সত্যতার পাওয়ার কথা বলেছে সংস্থাটি।